‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ পোস্টে তোলপাড়, সত্যিটা জানালেন শুভ–কেয়া


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ পোস্টে তোলপাড়, সত্যিটা জানালেন শুভ–কেয়া

ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। দুজনই নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে কেয়া পায়েলকে আলিঙ্গন করে থাকতে দেখা যায় শুভকে। ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ কেয়া পায়েল’। কেয়া পায়েলের অ্যাকাউন্টে লেখা, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ আরিফিন শুভ’।

পোস্টটি প্রকাশের পর মুহূর্তেই শুরু হয় জল্পনা। অনেকেই মন্তব্য করতে থাকেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তনের পর হয়তো সত্যিই নতুন করে সংসার শুরু করেছেন আরিফিন শুভ। কেউ কেউ দুই তারকাকে অভিনন্দনও জানাতে শুরু করেন।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাস্তবে বিয়ে করেননি আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টটি তাঁদের নতুন চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর প্রচারণার অংশ।


প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাঁদের। দীর্ঘদিন পর আবারও চরকির কোনো কনটেন্টে ফিরছেন আরিফিন শুভ। অন্যদিকে চরকির কোনো কনটেন্টে এটিই কেয়া পায়েলের প্রথম কাজ। মিনিস্ট্রি অব লাভ (এমওএল) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সপ্তম ফিল্ম এটি। সহপ্রযোজনায় রয়েছে ছবিয়াল।


সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর গল্প। নির্মাতা জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘কাছাকাছি সময়ের দুটি সময়ের মানুষের গল্প এটা। তারা তাদের ব্যক্তিসত্তা, পরিবার, সমাজ ও সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবে, তার একটা প্রতিফলন পাওয়া যাবে ফিল্মে। আমি আশাবাদী যে দর্শকদের মধ্যে একটা উপলব্ধি আমি তৈরি করতে পারব।’

ফিল্মে আরিফিন শুভ অভিনয় করেছেন আনিস চরিত্রে। অ্যাকশনধর্মী বা শক্তিশালী পুরুষ চরিত্রের বাইরে এবার তাঁকে দেখা যাবে একেবারেই ভিন্নরূপে। শুভ বলেন, ‘“উনিশ২০”–এর পর চরকির সঙ্গে নতুন কাজ করছি। রম–কম ঘরানার কাজ এটা। শুধু বলার জন্য বলা না, এ রকম চরিত্রে কাজ করিনি। দর্শকেরা সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত, এখানে আমাকে সেভাবে দেখা যাবে না। অর্থাৎ কনভেনশনাল স্ট্রং মেইল ক্যারেক্টারাইজেশন নয় এটা।’


শুভ জানান, তাঁর চরিত্রটি মফস্‌সলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবকের, যার পৃথিবীজুড়ে রয়েছে পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষেরা।
গল্পের অন্য প্রান্তে রয়েছে উচ্চবিত্ত ও আধুনিক শহুরে সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা তরুণী অনামিকা। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেয়া পায়েল। তাঁর চরিত্র আবর্তিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রোমাঞ্চ, সেলিব্রিটি ফ্যান্টাসি ও ভার্চ্যুয়াল জগতের মোহনীয় স্বপ্নকে ঘিরে।

কেয়া পায়েল বলেন, ‘বেশ কিছু কারণে খুব ভালো লাগছে। প্রথমত, আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত, চরকির সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তৃতীয়ত, এর নির্মাতা জাহিদ প্রীতম।’

নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে কেয়া বলেন, ‘আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। আর আমার অভিনয়ের অনেকগুলো লেয়ার আছে। সবকিছু মিলিয়ে দর্শক আমাকে অনেকভাবেই দেখেছেন, আবারও একটু ভিন্নভাবে দেখবেন।’

নির্মাতা জাহিদ প্রীতমের ভাষায়, ‘আমরা প্রতিদিন যে সামাজিক দূরত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং এর সঙ্গে আমাদের চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধের যে সংঘাত, তার এক বাস্তবসম্মত প্রতিচ্ছবি মিলবে এই কনটেন্টে।’

তাঁর দাবি, ফিল্মটিতে হিউমার, রোমান্স ও আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্ত রয়েছে, যা দর্শকদের স্পর্শ করবে।চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের প্রতিটি গল্পেই সম্পর্কের ভিন্ন লেয়ার তুলে আনা হয়েছে। এই গল্পেও তেমন একটি সম্পর্কের গল্প দর্শকেরা দেখতে পারবেন।’

গল্পের কারণেই ফিল্মটির সহপ্রযোজনায় যুক্ত হয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিনি বলেন, ‘ভাবনার ভিন্নতার কারণে দুজন মানুষের যে দ্বন্দ্ব, খুনসুটি, নিজেদের ভাবনাগুলোকে মেলানোর চেষ্টা—গল্পের এ বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। সে জন্যই কাজটার সঙ্গে যুক্ত হওয়া। আর গল্পের মতো করেই আমরা মূল দুই শিল্পীকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখতে পাব। সেটা দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করি।’

চরকিতে এর আগে আরিফিন শুভকে সর্বশেষ দেখা গেছে ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উনিশ২০’-এ। অন্যদিকে ‘ঘুমপরী’র পর এটি জাহিদ প্রীতমের দ্বিতীয় চরকি অরিজিনাল ফিল্ম। মিনিস্ট্রি অব লাভ প্রকল্পের আওতায় এর আগে মুক্তি পেয়েছে ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগ্যামি’, ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘ফরগেট মি নট’, ‘৩৬–২৪–৩৬’ ও ‘ডিমলাইট’।

Link copied!