সকালে আকাশ ছিল মেঘলা। থেমে থেমে বৃষ্টিও ঝরছিল। কিন্তু সেই বৃষ্টির প্রভাব শুধু রাস্তাঘাটেই নয়, পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারেও। যেন বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গেই সবজির দামে লেগেছে আগুন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৪০ টাকা। তবে সবজির বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও মুরগি, ডিম ও অধিকাংশ মাংসের দাম রয়েছে স্থিতিশীল।
শুক্রবার রাজধানীর বৃহত্তম পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজার এবং ব্যস্ত খুচরা বাজার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকটের কথা বললেও বাজারে পর্যাপ্ত সবজি থাকায় সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ ক্রেতারা।
গতকাল কারওয়ান বাজারে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় সবজিবোঝাই ট্রাকের সংখ্যা ছিল কিছুটা কম। পাইকারি ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে অনেক কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে। এতে কৃষকরা সময়মতো সবজি তুলতে পারছেন না। একই সঙ্গে মহাসড়কে যানজটের কারণে ঢাকায় পণ্য পৌঁছাতেও দেরি হচ্ছে। সরবরাহে এই ব্যাঘাতের প্রভাবই বাজারদরে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ব্যবসায়ীদের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের কথা বলা হলেও বাজারে সবজির কোনো দৃশ্যমান ঘাটতি নেই। বেসরকারি চাকরিজীবী জয়নাল আবেদীন বললেন, ‘আকাশে একটু মেঘ দেখলেই ব্যবসায়ীদের যেন পোয়াবারো হয়ে যায়। তখনই সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেন। বলা হয় পণ্য আসে না, অথচ বাজারে এসে দেখি প্রতিটি দোকানই সবজিতে ভরা। সংকট নেই, আছে শুধু বাড়তি দাম।’
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটেও ছিল ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। তবে বাড়তি দাম শুনে অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।
এই বাজারে গতকাল বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০, পটোল ৬০ থেকে ৮০, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০, বরবটি ৬০ থেকে ৮০, কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০, চিচিঙ্গা ৬০, শজিনা ১৬০ থেকে ২০০, ধুন্দল ৬০, দেশি শসা ১০০ ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা দরে। টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মুলা ৭০, পেঁপে ৫০ ও কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মুরগির বাজারে স্বস্তি ছিল। গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হয়েছে সব ধরনের মুরগি। ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৬৫ টাকা, সোনালি কক ৩৩০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
ডিমের বাজারেও তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।
মাংস ও মাছের বাজারে দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও কয়েক ধরনের মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা। আকারভেদে ইলিশের কেজি ১১০০-২০০০ বা ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রুই আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫৫৫ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতলা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


































