সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসির আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছে।
মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজে অবস্থিত একাডেমিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী ও শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন, আবু জাফর, রাজিব, সিরাত, পাপন, আরেফিনসহ ৭ শিক্ষার্থীর সঙ্গে চলমান আন্দোলনের বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে।
এ সময় ভিসি আব্দুল লতিফ বলেন, “তোমাদের দাবি ন্যায্য, আমরা তোমাদের দাবির সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করছি। আমরা সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আছি। তবে তোমরা রাত ২ টা পর্যন্ত অনেক শিক্ষককে আটকে রেখেছো এটা খুবই দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আচরণের মধ্যে এটা পড়ে কি না আমি জানি না। আগামী ২৮ নভেম্বরের মধ্যে আমরা ফারহানা ইয়াসমিনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবো। তোমরা ধৈর্য ধরো।”
ভিসি আরো বলেন, “এই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি থেকে আসতে হয়। এজন্য সিদ্ধান্তের দীর্ঘ সূত্রতা রয়েছে। আমরা তো ইতোমধ্যেই শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। তিনি তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারবেন না।”
জানা গেছে, আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের পরিচালকসহ ৩ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্তের জন্য শাহজাদপুরে আসার কথা রয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, “তোমাদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত। বাংলাদেশে কোথায় কোন আন্দোলন নাই। শাহজাদপুরে তোমাদের আন্দোলনের জন্য আমরা সবাই বিব্রতবোধ করছি।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরো বলেন, “এমন কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রথম ধাপেই কাউকে স্থায়ী বরখাস্ত করার বিধান নাই। প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পর্যায়ক্রমে সকল প্রক্রিয়া শেষ করে স্থায়ী বরখাস্ত করতে হয়।”
পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন ও আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, “ভিসি স্যারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের আন্দোলন স্থগিত করলাম।”
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন নিজেই কাঁচি হাতে ১৬ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন বলে অভিযোগে ওঠে। সেই শিক্ষার্থীদের একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে তাকে বকাঝকা করেন বলেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। এরপর ওই ছাত্র আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।







































