এবার পারমাণবিক শক্তির সাহায্যে হাড়ের ক্যানসার থেকে শুরু করে জটিল টিউমার দূর করার সম্ভাবনার তথ্য দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু করপোরেশন (রসাটম)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাশিয়ার কালুগা অঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিরল ও শক্তিশালী তেজস্ক্রিয় ওষুধ উৎপাদন হবে।
রসাটমের বাংলাদেশের পিআর এজেন্সি ‘ট্রিউন গ্রুপ’ আজ সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল প্ল্যান্টটি ২০২৮ সালের মধ্যে এর নির্ধারিত উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছাবে। এটি রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশা করছে। রসাটম বাংলাদেশের রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাশাপাশি চিকিৎসা খাতেও কাজ করছে তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে রসাটম জানিয়েছে, রাশিয়ায় তৈরি এই স্থাপনাটিতে রেডিয়াম-২২৩ এবং অ্যাক্টিনিয়াম-২২৫ সহ রেডিওনিউক্লাইড ভিত্তিক রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি করা হবে। মূলত, রেডিয়াম-২২৩ প্রাথমিকভাবে হাড়ের মেটাস্টেসিস আক্রান্ত ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়; অন্যদিকে অ্যাক্টিনিয়াম-২২৫ হলো একটি আলফা এমিটার, যা ব্যবহৃত হয় টার্গেটেড ক্যানসার থেরাপিতে।
রসাটম জানায়, নতুন স্থাপনায় রাশিয়ার তৈরি স্বয়ংক্রিয় সিন্থেসিস মডিউল রয়েছে, যা প্রতি শিফটে কমপক্ষে ১০০ ভায়াল রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি করতে সক্ষম। এ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি ব্যাচের ধারাবাহিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এটি মানুষের ভুলের পরিমাণ কমিয়ে আনবে এবং নতুন ওষুধ তৈরিতে সহায়তা করবে।
প্ল্যান্টটিতে রোবোটিক সরঞ্জামের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ এবং পরিচালনার জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে। রসাটমের মতে, এই স্থাপনাটি আইসোটোপ উৎপাদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ওষুধ প্রস্তুত করা পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ উৎপাদন চক্র গড়ে তুলবে।






























