• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০, ২০ শা’বান ১৪৪৫

চেয়ারম্যানের নামে মামলা না নেওয়ায় ওসিকে শোকজ


লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৩, ০২:৫৭ পিএম
চেয়ারম্যানের নামে মামলা না নেওয়ায় ওসিকে শোকজ

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের নামে মামলা না নেওয়ার অভিযোগে ওসি আলমগীর হোসেনকে শোকজ করেছেন আদালত।

একই সঙ্গে আদালত ওই চেয়ারম্যানসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামি করে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল রামগতি আদালতের বিচারক ভিক্টোরিয়া চাকমা এ আদেশ দেন।  

বাদীর আইনজীবী ইফতেখার মাহমুদ ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নজির ইসলাম বাবুল নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় চরপোড়াগাছা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার ও তার ছেলে চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা রুবেলসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে রামগতি থানার ওসিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা (এফআইআর) নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে থানায় মামলা না নেওয়ায় ওসি আলমগীর হোসেনকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেন বিচারক।

এজাহারে অন্য অভিযুক্তরা হলেন মো. লিটন, মো. রাকিব, আল আমিন, শাহ আলী রতন, মো. রাজু, মো. পারভেজ, মো. বাবু, মো. হানিফ, আবদুর রহিম, রাকিব, আবুল কালাম ড্রাইভার, মো. সাজ্জাদ ও মো. আজমির এবং অজ্ঞাত ৩০ জন।  

মামলার বাদী শাহিনুর বেগম জানান, আহত বাবুল চরপোড়াগাছা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। যুবলীগ নেতা রুবেলসহ অভিযুক্তদের সঙ্গে তাহেরের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। অভিযুক্তরা তাহেরের জমি দখলের পাঁয়তারা করে আসছেন। ৯ আগস্ট রাতে অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বাবুলদের বাড়িতে গিয়ে ককটেল ও হাত বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সেই সঙ্গে ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে বাবুলদের প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।

একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। এ সময় অভিযুক্তরা বাবুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে যান। পরদিন ভোরে চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের নির্দেশে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চরকলাকোপা গ্রামে বিবদমান জমিতে ঘর নির্মাণ করতে যান। এতে বাধা দিলে বাবুলকে তারা এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে রুবেল ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবুলের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার সঙ্গীরাও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশে বাবুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।  

আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবুলকে ঢাকার প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।  

শাহিনুর বেগম বলেন, “চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার ছেলে রুবেলসহ অভিযুক্তরা আমার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”  

এ ব্যাপারে চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা রুবেল বলেন, “উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহ মো. রাকিবের কাছ থেকে আমি জমি কিনে চাষাবাদ করে আসছি। ওই জমি বাবুলরা দখলে নিতে চায়। এতে বাধা দিতে গেলেই তারা আমার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। আমি তাদের নামে মামলা করেছি। এখন তারাও আমার নামে আদালতে মামলা করেছে বলে শুনেছি।”  

চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন, “জমিটি আমার ছেলে কিনেছে। বাবুলরাও তাদের জমি বলে দাবি করছে। এ নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও বাবুলরা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ঝামেলা না করতে পাঁচ লাখ টাকা দিতে চাইলে বাবুলরা নেয়নি। ঘটনার দিন জমি দখল করতে গেলে আমার ছেলের পক্ষ ও বাবুলদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত।“  

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি বাবুলের পরিবারকে কয়েকবার মামলা করতে আসতে বলেছি। কিন্তু তারা আসেনি। তার কী কারণে আসেনি, তাও জানায়নি আমাকে। ঘটনাটি আমি আদালতকে জানাব।”

Link copied!