রংপুরের পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়ায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানববন্দি দিয়েছেন।
রোববার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. দেলোয়ার হোসেনের আদালতে তারা এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুদীপ্ত শাহীন। তিনি জানান, পীরগঞ্জে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর সৈকতের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে র্যাব। সেই মামলায় আজ তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতে শুনানিকালে সৈকত ঘটনার সঙ্গে স্বেচ্ছায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়া পীরগঞ্জের মাঝিপল্লীতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় সৈকতের সহযোগী রবিউল ইসলামকেও আদালতে তোলা হয়েছে। তিনিও স্বেচ্ছায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে বিকালে রংপুরের হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় রিমান্ড শেষে ৩৭ আসামিকে আদালতে তোলা হয়। নতুন করে তাদের রিমান্ড আবেদন না করায় আদালত তাদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ১৭ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার কথিত অভিযোগে রংপুরের পীরগঞ্জের রমনাথপুর উত্তরপাড়া মাঝিপল্লীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের। বাকিগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে।
রোববার ভোর পর্যন্ত এসব মামলায় মোট ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার অন্যতম হোতা মো. সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সৈকত রংপুরের কারমাইকেল কলেজের সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা ও রবিউল ইসলাম বাটেরহাট মসজিদের ইমাম।


































