মহাকালের সুবর্ণ রথে চড়ে আবারও অভির্ভূত শরৎকাল শিউলী সুবাস, কাশবনের অপরূপ শোভা, সকালে হিমেল হাওয়া, বিকেলের নীল সাদা মেঘে ঘনঘটা, দূর্বাঘাসে ভোরে শিশির হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্মরণ করিয়ে দেয় মায়ের আগমনী বার্তা। শারদ দেবী শুভাগমনের সারা বিশ্ব আজ আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবারে ন্যায় এবারো রাঙ্গামাটিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তটি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছ।
সোমবার (১১ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এর আনুষ্ঠানিকতা।
রোববার (১০ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের শ্রীশ্রী কালীমন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চ তৈরি ও প্রতিমার শরীরে কাপড় পরানোর কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। প্রতিমাকে শেষবারের জন্য সুন্দর করে সাজিয়ে নিচ্ছেন তারা। মন্দিরের চারপাশও সাজানো হয়েছে বাহারি নকশায়। মন্দিরের প্রধান গেটসহ অন্যান্য জায়গাগুলোও বর্ণিল হয়ে সেজে উঠেছে।
রাঙামাটিতে পূজারি ও দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখতে আসছেন। তবে প্রতিমাকে সুন্দর করে সাজিয়ে কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রতিমা ঢেকে রাখা হয়েছে কেন—জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “প্রতিমা সাজানোর কাজ শেষ। এখনই তা উন্মুক্ত করে দিলে সবাই ভিড় করবে। কিন্তু এখনও মাঠের সাজসজ্জার কাজ চলছে। মানুষ ভিড় করলে কাজে ব্যাঘাত ঘটবে বলেই প্রতিমা ঢেকে রাখা হয়েছে।“
বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের আয়োজন কমিটির সদস্য ও পূজারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার ৬টা ৩০ মিনিটে কল্পারম্ভের মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিকেল ৪টায় সম্পন্ন হবে ষষ্ঠী পূজা।
এদিকে, রাঙামাটিতে প্রতিটি উপজেলায় মন্দিরে মণ্ডপের সামনে খোলা স্থানে চেয়ার রেখে বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। যারা পূজা দেখতে আসবেন, তাদের বসার জন্যও আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। প্রধান ফটকসহ গোটা মন্দির ঘিরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর থাকতেও দেখা গেছে মন্দির এলাকাজুড়ে।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।






































