কিশোরের নখ উপড়ে নিলেন যুবলীগ নেতারা


নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১, ১১:৩৭ এএম

নাটোরে চাঁদার জন্য ফয়সাল হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরের আঙুলের নখ উপড়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা। এ ঘটনায় সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফয়সাল হোসেন একটি দোকানের কর্মচারী। 

গ্রেপ্তাররা হলেন নাটোর সদর উপজেলার নবীনগর গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে একরাম হোসেন সুমন (৩৫) ও শহরের চকরামপুর আনিসুর রহমানের ছেলে মো. আবির (২৬)।

এর আগে রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নাটোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রনি আহমেদ, তার ভাই যুবলীগ নেতা রবিউল আওয়াল বাপ্পি, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শুভসহ আটজনকে আসামি করে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা করেন নির্যাতিত কিশোরের দোকান মালিক আব্দুল সালাম।

মামলার বাদী আব্দুস সালাম জানান, ব্যবসায়িক লেনদেন বিষয়ে একরাম হোসেন সুমনের সঙ্গে তার (সালাম) বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকা থেকে মো. আবির এবং সুমনের সহযোগিতায় রবিউল আওয়াল বাপ্পি, মোহাম্মদ মনি পেটে ধারালো চাকু ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ফয়সালকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে শহরের কানাইখালী এলাকায় যুবলীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর ফয়সালকে চোর বলে দাবি করে সালামের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে রবিউল আওয়াল বাপ্পি এবং তার সহযোগীরা লোহার প্লায়ার্স দিয়ে ফয়সালের বাঁ হাতের তর্জনীর নখ উপড়ে ফেলে।

পরে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রনি আহমেদ এবং তার ভাই যুবলীগ নেতা রবিউল আওয়াল বাপ্পি, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শুভসহ আসামিরা সালামকে তার স্ত্রীর গয়না এনে দিতে বলেন। পরে সালাম তার ব্যবহৃত আর-১৫ মডেলের মোটরসাইকেল আসামিদের দিলেও তারা আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এবং পুলিশকে এ বিষয়ে জানালে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেন। 

এ বিষয়ে নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনসুর রহমান বলেন, পুলিশ খবর শোনামাত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামি একরাম হোসেন সুমনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে ভিকটিম ফয়সাল ও সালামের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আহত অবস্থায় ফয়সালকে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে মোটরসাইকেল এবং ভিকটিম উদ্ধার করেছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Link copied!