হালাল উপার্জনের কথা বলে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষিকা আটক


পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১, ০২:০৬ পিএম
হালাল উপার্জনের কথা বলে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষিকা আটক

পাবনায় হালাল উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেসরকারি স্কুলের এক শিক্ষিকাকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষিকাকে আটক করে পুলিশ। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আটক সীমা আক্তার (৪০) পৌর এলাকার আটুয়া হাউজ পাড়া মহল্লার হানিফুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি পাবনা পৌর এলাকার পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার শিক্ষক।

প্রতারণার স্বীকার ভুক্তভোগীরা জানান, সাধারণ মানুষকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক হালাল উপর্জনের কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সীমা আক্তার। তার কথায় বিশ্বাস করে লাভের আশায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন অনেক মানুষ। প্রথম পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে তাদেরকে লাভের অর্থ দেন সীমা। পরবর্তী সময়ে টাকার অংক বেড়ে গেলে গা ঢাকা দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতারক সীমা আক্তার বলেন, “আমার কোনো বৈধ ব্যবসা নাই। একজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আরেকজনকে দিয়েছি। যারা টাকা দিয়েছে তাদেরকে সুদে অনেক টাকা লাভ দিয়েছি। অমি কারো টাকা আত্মসাৎ করিনি। মানুষ না জেনে না বুঝে আমাকে টাকা কেন দিয়েছে? তাদেরকে প্রশ্ন করুন।”

ওই শিক্ষিকা আরও বলেন, “সম্প্রতি যারা আমাকে টাকা দিয়েছে তাদের টাকার একটি হিসাব করেছি। সেখানে প্রায় তিন কোটি টাকার মত হবে। সেই সকল টাকা আমি দিয়ে দেব। আর যারা সুদে লাভের টাকা নিয়েছেন তাদেরটা দেব না। আমাকে কেন স্কুল থেকে বহিষ্কার করেছে সেটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানে।”

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। এই ধরনের অভিযোগের কারণে তাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, “প্রতারণার বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ নিয়ে এসেছেন ভুক্তভোগীরা। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। অনেকেই তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ নিয়ে এসেছেন। মঙ্গলবার রাতে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা হয়েছে।”

Link copied!