সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না সেতু


জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২২, ১১:০১ এএম
সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না সেতু

বকশীগঞ্জে দুই পাশে অ্যাপ্রোচে দীর্ঘদিনেও মাটি ভরাট না করায় কাজে আসছে না একটি সেতু। ফলে আট বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে সেতুটি। বারবার আবেদন-নিবেদন করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না স্থানীয় এলাকাবাসী।

জানা যায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্বিক তদারকিতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মসজিদপাড়া দক্ষিণ ধাতুয়াকান্দা রাস্তায় ছোট খালের ওপর ৩০ ফুটের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণের পর এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটতে থাকে। কিন্তু নির্মাণের এক বছর পর ২০১৬ সালের বন্যায় সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ ভেঙে মাটিশূন্য হয়ে পড়ে। সেতুর দুই পাশে মাটি না থাকায় আগের মতো দুর্ভোগে পড়েন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

২০১৬ সালের পর থেকে অচলাবস্থায় পড়ে রয়েছে সেতুটি। দীর্ঘদিনেওমাটি ভরাটের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই সেতুটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দ্বারস্থ হয়েও তেমন কোনো ফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান, বর্ষা এলেই প্রায় চার কিলোমিটার ঘুরে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ বা জরুরি কাজে যেতে হয় এলাকাবাসীকে।

সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জোনাকী আক্তার বলে, “আমার দক্ষিণ ধাতুয়াকান্দা গ্রাম থেকে বিদ্যালয়ে যেতে হলে এই খালের ওপর দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সেতুটি সচল না থাকায় বন্যা বা বর্ষার দিনে আমাদের অনেক কষ্ট করে চার কিলোমিটার ঘুরে প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। তাই সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করছি।”

একই এলাকার শিক্ষার্থী মো. তারিকুল ইসলাম বলে, “আমাদের মাদ্রাসায় যেতে হলে বর্ষাকালে গামছা পরে এই খাল পার হতে হয়। বছরের বেশির ভাগ সময় আমাদের বহু শিক্ষার্থীকে কষ্ট করতে হয়।”

দক্ষিণ ধাতুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক ছাইদুর রহমান বলেন, “নানা কারণে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ, সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চবিদ্যালয় ও সাধুরপাড়া দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে হলে এই খালের ওপর দিয়ে যেতে হয়। সেতুর অ্যাপ্রোচ বা মাটি ভরাট না করায় আমরা সময়মতো সব কাজ করতে পারি না। তাই জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অবিলম্বে মাটি ভরাট করে সেতুটি সচল করা হোক।”

বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মজনুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ৪০ দিনের কর্মসূচি বা কাবিখার বরাদ্দ দিয়ে রাস্তাটি সচল করে দেওয়া হবে।”

Link copied!