রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা

আপিলের রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও মাদ্রাসাছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার।
 সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় এ সন্তোষ প্রকাশ করেন নুসরাতের মা।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা এ মামলায় মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও সাজা কমেছে চারজনের। এ মামলায় খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এদিন দুপুরে রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে এই মামলায় ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত।

নুসরাতের মা রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বললেন, ‘আমাদের অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল— নুসরাত আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এখন আমরা অপবাদমুক্ত হলাম।’

আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিরিন আক্তার। বললেন, ‘আমার তিন ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে আমি ও আমার পরিবার খুব শঙ্কায় আছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চাই।’

মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানও এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে রেখে কর্মস্থলে অবস্থান করছেন। এখন প্রধান দাবি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এদিকে নুসরাতের পরিবার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করায় তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন সোনাগাজী ইসলামীয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, এ মামলার আপিলের রায়ে নুসরাতের পরিবার সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছি।’

নুসরাতের বাড়ি ও মাদ্রাসা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সোনাগাজী থানার ওসি মো. আবুল হাশিম বলেছেন, রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নুসরাতের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সোনাগাজী ইসলামীয়া কামিল মাদ্রাসা ক্যাম্পাসেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এই মামলায় ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

বিচারিক আদালতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য আসে হাইকোর্টে, পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেছিলেন। ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।

নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। মোট ১৭ কার্যদিবসে ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয় গত ২০ আগস্ট। সেদিনই আদালত রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

Link copied!