আলোর ফেরিওয়ালা পলান সরকারের জন্মদিনে স্মরণসভা


নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২১, ১১:২৯ এএম
আলোর ফেরিওয়ালা পলান সরকারের জন্মদিনে স্মরণসভা

গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছোট-বড় সবার দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়া আলোর ফেরিওয়ালা পলান সরকারের ১০১তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে রোববার (১ আগস্ট) নাটোরের বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামে পলান সরকার পাঠাগারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে পাঠক সমাবেশ ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকারের জন্ম ১৯২১ সালের ১ আগস্ট নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নূরপুর মালঞ্চি গ্রামে। ২০১৯ সালের ১ মার্চ ৯৮ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তার আসল নাম হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে মা ডাকতেন পলান নামে। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বাবা মারা যান। অভাবের কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালীন পড়ার ইতি টানেন পলান সরকার। 

কর্মজীবনের শুরুতে পলান সরকার তার নানা ময়েন উদ্দিন সরকারের জমিদারির খাজনা আদায় করতেন। এরপর জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে ১৯৬২ সালে বাউসা ইউনিয়নে কর আদায়কারীর চাকরি পান তিনি। একসময় পলান সরকার যাত্রাদলে ভাঁড়ের চরিত্রে অভিনয় করতেন এবং যাত্রার পাণ্ডুলিপি হাতে লিখে কপি করতেন। অন্যদিকে মঞ্চের পেছন থেকে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সংলাপ বলে দিতেন। এভাবেই তার বই পড়ার নেশা জাগ্রত হয়। 

দেশের গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে ওঠা বইপ্রেমী পলান সরকার নিজের টাকায় বই কিনে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এ আন্দোলনের জন্য ২০১১ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে সরকারিভাবে তার বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে সারা বিশ্বের ৪০টি বিভিন্ন ভাষার দৈনিকে পলান সরকারের এ বইপড়ার আন্দোলনের গল্প প্রকাশিত হয়। তার জীবনের ছায়া অবলম্বনে বিটিভির জন্য গোলাম সারোয়ার দোদুল নির্মাণ করেন ঈদের নাটক ‘অবদান’। বিনা মূল্যে বই বিতরণ করে সবার মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টির করার জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশ পলান সরকারকে ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবে ভূষিত করে।

Link copied!