অপেক্ষার প্রহর কাটছে না ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকদের


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
অপেক্ষার প্রহর কাটছে না ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকদের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার খবর শুনে নতুন আশায় বুক বেঁধেছিলেন এমভি বাংলার জয়যাত্রা জাহাজের ৩১ বাংলাদেশি নাবিক। ধারণা ছিল, হরমুজ প্রণালি আবার স্বাভাবিক হলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার শেষ এখনো হয়নি। সমঝোতার পরও হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় পারস্য উপসাগরেই আটকে আছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজটি।

গত বৃহস্পতিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বাড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজ অনুমতি নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করলেও শনিবার পর্যন্ত হরমুজ পার হতে পারেনি বাংলার জয়যাত্রা।


জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার পর বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৫টি জাহাজ যাতায়াত করেছে। তবে সেই তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশি জাহাজটির।

সমঝোতা হলেও জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেসব জাহাজকে অনুমতি দিচ্ছে, তারাই কেবল হরমুজ পার হতে পারছে। আমরা এখনো অপেক্ষায় আছি।
—শফিকুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন, এমভি বাংলার জয়যাত্রা
জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমঝোতা হলেও জাহাজ চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেসব জাহাজকে অনুমতি দিচ্ছে, তারাই কেবল হরমুজ পার হতে পারছে। আমরা এখনো অপেক্ষায় আছি।’

অনিশ্চয়তায় ৩১ নাবিক
দীর্ঘ প্রতীক্ষা নাবিকদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকই বাংলাদেশি। সংঘাত শুরুর পর থেকে তাঁরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা, বিস্ফোরণের শব্দ ও সামরিক তৎপরতার মধ্যেই দিন কাটিয়েছেন।

জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে এখনো পারস্য উপসাগরেই অবস্থান করছে জাহাজটি।
নাবিকদের পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগে রয়েছেন। সমঝোতার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু দিন পেরিয়ে গেলেও জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করতে না পারায় সেই উৎকণ্ঠা কাটেনি।

কীভাবে আটকা পড়ল জাহাজ
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে বাংলার জয়যাত্রা। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরদিনই ইরানের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সংঘাত শুরু হলে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে পারস্য উপসাগরেই আটকা পড়ে জাহাজটি।

জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে এখনো পারস্য উপসাগরেই অবস্থান করছে জাহাজটি।

অপেক্ষার শেষ কবে
সমঝোতা হয়েছে, কিছু জাহাজ চলাচলও শুরু করেছে। কিন্তু বাংলার জয়যাত্রার নাবিকদের স্বস্তির বদলে সঙ্গী হয়েছে অপেক্ষা। কবে হরমুজ পুরোপুরি নিরাপদ হবে, কবে মিলবে যাত্রার অনুমতি আর কবে গন্তব্যের পথে রওনা হবে বাংলার জয়যাত্রা? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। পারস্য উপসাগরে নোঙর ফেলা জাহাজটিতে থাকা ৩১ বাংলাদেশি নাবিক প্রতিটি দিন কাটাচ্ছেন সেই উত্তর পাওয়ার আশায়।

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!