• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ১০ মুহররম ১৪৪৫

বিষ কিনতে গিয়ে দোকানির সঙ্গে প্রেম, বিয়ের দাবিতে অনশন


পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ৮, ২০২২, ১০:০৪ পিএম
বিষ কিনতে গিয়ে দোকানির সঙ্গে প্রেম, বিয়ের দাবিতে অনশন

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে পাঁচ দিন অনশন কর্মসূচি করার পর তাকে মেনে না নেওয়ায় বাবার বাড়িতে ফিরে গিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেছেন সীমা আক্তার নামের এক তরুণী।

শনিবার (৭ মে) বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মানসুরাবাদ গ্রামে তরুণীর বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবারের লোকজন। বর্তমানে ওই তরুণী সুস্থ আছেন। প্রেমিক রায়হান পলাতক।

সীমা আক্তার উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের মানসুরাবাদ গ্রামের জব্বার জোমাদ্দারের মেয়ে। রায়হান সুবিদখালী বাজারের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী। উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মতি মৃধার ছেলে। সাত মাস আগে তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়।

সীমা আক্তার বলেন, “সাড়ে চার বছর আগে দক্ষিণ কলাগাছিয়া গ্রামের শহীদুল্লাহর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমাদের তিন বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। আমার স্বামী প্রায়ই সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত। এতে এক বছর আগে বিষপান করে আত্মহত্যা করার উদ্যোগ নিই। ওই বিষ কিনতে সুবিদখালী বাজারের রায়হানের কীটনাশকের দোকানে যাই। রায়হান আমার মানসিক অবস্থা দেখে বুঝতে পারে। পরে আমাকে বিষপানে বিরত করেন এবং বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় সে । এ সময় আমার ফোন নাম্বার রেখে দেয় রায়হান প্রতিনিয়ত আমার খোঁজখবর নিত। একপর্যায়ে আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়ে ধীরে ধীরে তা প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। এ সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে বহুবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান রায়হান এবং কৌশলে আগের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন আমাকে। এর পরেও আমাদের সম্পর্ক ঠিক ছিল। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রায়হান বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।” এতে সোমবার (২ মে) বিয়ের দাবিতে রায়হানের বাড়িতে অবস্থান নেন তিনি। তাকে দেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান রায়হান।

তরুণী আরও বলেন, “ওই বাড়িতে গত ৫ দিন থাকাকালে রায়হানের মা ও বাবা আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন এবং বিষপানে আত্মহত্যা করতে বলেন। শুক্রবার (৬ মে) রাতে আমার বাবা এলে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার সঙ্গে বাড়িতে চলে যাই। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় কোনো উপায় না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করি। বাসার লোকজন টের পেয়ে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।”

মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে এখন আগের চেয়ে সুস্থ।

এ বিষয় মির্জাগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, বাবার বাড়িতে বসে বিষপান করেছে বলে জানতে পেরেছি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শুনেছি পরকীয়া প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মেয়েটি এ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!