বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২–০ গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩–২ ব্যবধানে হেরেছে মিসর। ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। তাঁদের অভিযোগ, ম্যাচের কিছু সিদ্ধান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। সেই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে অবশ্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেশ পরিচিত একটি নাম।
ফ্রান্সের ব্রিটানির বেদে শহরে ১৯৮৯ সালের ২৩ এপ্রিল জন্ম লেতেক্সিয়ের। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ফরাসি লিগ ওয়ানে অভিষেক হয় তাঁর। সেই মৌসুমেই আটটি ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।
এক বছর পর, ২০১৭ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির স্বীকৃতি পান লেতেক্সিয়ে। পরে তিনি উয়েফার এলিট ক্যাটাগরির রেফারিও হন। ইউরোপীয় ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ইউরোপা লিগের ফাইনাল (ভিয়ারিয়াল–ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ২০২৩ সালের উয়েফা সুপার কাপ (ম্যানচেস্টার সিটি–সেভিয়া) এবং ইউরো ২০২৪-এর ফাইনাল (স্পেন–ইংল্যান্ড)। ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি, যার একটি ছিল ফ্লুমিনেন্সে–চেলসির সেমিফাইনাল।
লেতেক্সিয়ের ক্যারিয়ারে বড় বিতর্কের ঘটনা খুব বেশি নেই। আলোচনায় এসেছিলেন ২০২২ সালের অক্টোবরে নিস ও নঁতের ফরাসি লিগের একটি ম্যাচে। সেই ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর নঁতের পক্ষে একটি পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে অবশ্য যোগ করা সময়ে নিসকে একটি হ্যান্ডবলের পেনাল্টি দেন তিনি। ওই ম্যাচে সাতটি হলুদ কার্ড দেখানোর পাশাপাশি নঁতের দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ডও দেখিয়েছিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের আগে লেতেক্সিয়ে দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। সেই দুই ম্যাচে তিনি মোট আটটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। তবে কোনো পেনাল্টি দেননি, লাল কার্ডও দেখাতে হয়নি তাঁকে।
মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অবশ্য লেতেক্সিয়ের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। মিসরের কোচ ও খেলোয়াড়দের অভিযোগ, তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে।






























