নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের তপ্ত আবহাওয়াতেও মাঠের উত্তাপ বাড়িয়ে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, শেষ ১৬-র প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়েকে নিয়ে তিনি কী ভাবছেন? স্বভাবসুলভ হাসিতে ফরাসি অধিনায়কের উত্তর, ‘আমি এই মুহূর্তে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিক ড্রেসিংরুমে যাওয়ার কথা ভাবছি!’
মঙ্গলবার রাতের এই জোড়া গোলে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা এখন ১৮। তিনি আর মাত্র ১ গোল পিছিয়ে আছেন চূড়ায় থাকা মেসির (১৯ গোল) চেয়ে। একই সাথে চলতি আসরে ৬ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও আর্জেন্টিনার এই জাদুকরকে ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি। চলতি আসরের গ্রুপপর্বে এই বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন মেসি, যা এখন হুমকির মুখে।
ম্যাচের ৪৫ মিনিটে ওসমানে দেম্বেলের সাথে গিভ অ্যান্ড গো পাস খেলে সুইডিশ ফরোয়ার্ড ভিক্টর গিওকেরেসকে বোকা বানিয়ে চোখধাঁধানো এক শটে প্রথম গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই এক গোলেই তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের কিংবদন্তি লিওনিদাস ও রোনালদো নাজারিওকে (৯ গোল) ছাড়িয়ে যান। এরপর ৭৪ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে করেন নিজের দ্বিতীয় গোল করে গড়েন বিশ্বরেকর্ড।
বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ১০ গোলের মালিক এখন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে মেসির ১৯ গোল এসেছে ২৯টি ম্যাচ খেলে। সেখানে এমবাপ্পে মাত্র ১৮টি ম্যাচ খেলেই করে ফেলেছেন ১৮টি গোল! অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি গোলের অনুপাতে মেসির চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী গতিতে ছুটছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ৮৫ মিনিটে যখন দেশম তাকে তুলে নিচ্ছিলেন, তখন কোচ নিজেই মাথা নিচু করে (বউ করে) এমবাপ্পেকে সম্মান জানান।
ম্যাচের ৪৫ মিনিটে প্রথম গোলটি করার পরেই এমবাপ্পে সরাসরি দৌড়ে যান ডাগআউটে কোচ দিদিয়ের দেশমের দিকে। জড়িয়ে ধরেন গুরুকে। মায়ের মৃত্যুর কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারেননি দেশম। মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে এই ম্যাচেই ডাগআউটে ফেরেন ফরাসিদের বিশ্বকাপজয়ী এই মাস্টারমাইন্ড।
ম্যাচ শেষে কোচের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের প্রধান কোচ ব্যক্তিগত জীবনে একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। জীবনের এই কঠিন সত্যটির মুখোমুখি একদিন সবাইকে হতে হবে। এটি ফুটবলের চেয়েও অনেক বড় আবেগ। তিনি জানেন যে আমরা সবসময় তার পাশে আছি, তিনি কখনো একা নন।’
ম্যাচের ৩২ মিনিটে অবশ্য হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা। তার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এসব নিয়ে কোনো হতাশা নেই এমবাপ্পের। বরং তিনি বিশ্বকাপ উপভোগ করছেন, ‘আমি এবার বিশ্বকাপটা পুরোপুরি উপভোগ করতে চেয়েছিলাম। আগের বিশ্বকাপগুলোও উপভোগ করেছি, তবে তখন তরুণ ছিলাম, পারফর্ম করার চাপ বেশি ছিল। এখন আমি একই সাথে দারুণ পারফরম্যান্সও করতে পারছি, আবার খেলাটা উপভোগও করছি।’
সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারও ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, ‘এমবাপ্পে যে কতটা উঁচুদরের খেলোয়াড়, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। ও যেভাবে গতি পরিবর্তন করে এত দ্রুত শটটি নিল, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য রকমের মানসম্মত ফুটবল।’

































