বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে মেজাজ হারাতে দেখা গেল আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরোর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মেসির অভিযোগ, রেফারি তার সঙ্গে যথাযথ সম্মান দিয়ে কথা বলেননি।
ম্যাচের ৪২তম মিনিটে আর্জেন্টিনা যখন ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল, তখনই ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মাঠের এক প্রান্তে রেফারি জোয়াও পিনহেইরোর কোনো একটি সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন মেসি। রেফারিকে আঙুল উঁচিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায় তাকে। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এএস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি সরাসরি রেফারিকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলুন। অসম্মান করবেন না। আমি আপনার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলেছি, আপনিও আমার সঙ্গে সেভাবে কথা বলুন।’
মেসির এমন তেজোদীপ্ত ও কঠোর অবস্থান মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। সাধারণত মাঠে খুব একটা উত্তেজিত হতে দেখা যায় না তাকে। তবে রেফারি যখন খেলোয়াড়দের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেন, তখন মেসি যে ছেড়ে কথা বলেন না—সেটিই আরও একবার প্রমাণিত হলো। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো উচ্চচাপের ম্যাচে রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেসি সম্ভবত মনে করেছিলেন, রেফারি তার সঙ্গে যে ভঙ্গিতে কথা বলছেন তা একজন অধিনায়ক হিসেবে অসম্মানজনক। তাই নিজের এবং দলের মর্যাদা রক্ষায় মাঠেই কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার পর খেলা আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। মেসি-পিকেদের এই জয় ও সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার লড়াই এখন বিশ্ব জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। রেফারিকে দেওয়া মেসির এই বার্তা যেন তার নেতৃত্বগুণেরই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে তিনি মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো আপস করতে রাজি নন।
































