চীনে বন্যায় তলিয়ে গেছে খামার, ছড়িয়ে পড়েছে শত শত বিষধর সাপ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
চীনে বন্যায় তলিয়ে গেছে খামার, ছড়িয়ে পড়েছে শত শত বিষধর সাপ

দক্ষিণ চীনের গুয়াংসি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সাপের খামার প্লাবিত হওয়ায় শত শত সাপ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পরা এসব সাপের মধ্যে বিষধর কোবরাও রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাপের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গুয়াংসির হেংঝৌ শহরের একটি সাপের খামার টানা ভারি বৃষ্টির পর বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর খামারে থাকা বিপুলসংখ্যক সাপ বেরিয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বাসিন্দাদের সতর্কতা জারি করে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন জাল দিয়ে সাপ ধরার চেষ্টা করছেন। অন্য একটি দৃশ্যে কাদামিশ্রিত প্রবল স্রোতের মধ্যে একটি কোবরা মাথা উঁচু করে ভেসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া সাপগুলোর মধ্যে পানিসাপ, কিং র‌্যাটস্নেক এবং বিষধর কোবরা রয়েছে।

স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাপের কামড়ে আহত এক ব্যক্তি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে নিজের বাড়ির নিচতলা পরিষ্কার করার সময় একটি কোবরা তাকে কামড় দেয়। তিনি বলেন, একসঙ্গে শত শত সাপ বেরিয়ে আসে এবং তিনি অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি সাপ নিজের চোখে দেখেছেন।

বেইজিং নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাপের কামড়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

এক চিকিৎসক জানান, টাইফুন আঘাত হানার পর থেকে তিনি সাপের কামড়ে আহত বেশ কয়েকজন রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন। 

এদিকে বন্যায় গুয়াংসির দুটি জলাধার উপচে পড়ে ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েকটি শহরের বহু গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, গানসু প্রদেশে ভূমিধসে ২১ জন এবং হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও টর্নেডোয় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক দুর্যোগে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।  হেংঝৌর জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে সাপের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এবং পালিয়ে যাওয়া সাপের কামড়ে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি নির্দেশনায় জানিয়েছে, কোবরা, ক্রেইট ও গ্রিন পিট ভাইপারের মতো বিষধর সাপ এখন বাড়িঘর, সিঁড়িঘর, ভবনের কোণা ও নদীতীরে আশ্রয় নিতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার, নিজেরা সাপ ধরার চেষ্টা না করার এবং সাপ দেখা গেলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া হেংঝৌ পিপলস হাসপাতালে অতিরিক্ত অ্যান্টিভেনম মজুত করা হয়েছে এবং সাপের কামড়ে আক্রান্তদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষ সেবা চালু করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

Link copied!