৮৬তম মিনিট আফ্রিকান দলগুলোর অভিশাপ


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ১২:১৮ এএম
৮৬তম মিনিট আফ্রিকান দলগুলোর অভিশাপ

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সবার। মাত্র ২৪ ঘণ্টার একটু বেশি সময়ের ব্যবধানে তিনটি আফ্রিকান দল ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে গোল হজম করে বিদায় নিয়েছে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্ম দিয়েছে তথাকথিত ‘৮৬তম মিনিটের অভিশাপ’ তত্ত্বের।

এই ধারার শুরু আইভরি কোস্টকে দিয়ে। নরওয়ের বিপক্ষে আমাদ দিয়ালোর গোলে সমতায় ফিরে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিল আইভরিয়ানরা, কিন্তু ৮৬তম মিনিটে আর্লিং হলান্ডের গোলে ১-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় তারা।

পরদিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে কঙ্গোর ক্ষেত্রে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়ে যাওয়া লেপার্ডরা গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত সেভের সুবাদে বেশিরভাগ সময় লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। তবে শেষ দিকে জোড়া গোল করেন হ্যারি কেইন, যার দ্বিতীয়টিও আসে ৮৬তম মিনিটে। এই গোলই ইংল্যান্ডকে এনে দেয় ২-১ ব্যবধানের জয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই এই তালিকায় যুক্ত হয় সেনেগালের নাম। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৮৬তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আফ্রিকান দলটি, ঠিক তখনই গোল করেন রোমেলু লুকাকু। এই গোল দিয়েই শুরু হয় বেলজিয়ামের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। নির্ধারিত সময়ে ৮৯তম মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের গোলে সমতায় ফেরার পর অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানের জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ করে বেলজিয়াম।

এই কাকতালীয় ঘটনা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে ওঠে সমর্থকদের মধ্যে। তারা টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে ৮৬তম মিনিটকে আফ্রিকান দলগুলোর জন্য একরকম ‘অভিশাপ’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।

এই তালিকা আরও বিস্তৃত হতে পারত। শেষ মুহূর্তে বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাও, কানাডার বিপক্ষে ৯২তম মিনিটে একমাত্র গোলটি হজম করে হারে তারা। বিপরীতে, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে সমতা টেনে নিজেদের স্বদেশি দলগুলোর একই পরিণতি এড়ায় মরক্কো, এরপর টাইব্রেকারে জিতে এগিয়ে যায় পরের রাউন্ডে।
 

Link copied!