লামিন ইয়ামাল-নিকো উইলিয়ামসকে একাদশে রাখেননি কোচ। নেই দানি ওলমোও। স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ভেবেছিলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবেচেয়ে ছোট কেপ ভার্দেকে হারাতে সব তারকাকে লাগবে কেন! হয়তো তাত্বিকভাবে ঠিকই ছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। স্রেফ সাহস, শৃঙ্খলা আর অদম্য সাহসের জোরে কেপ ভার্দে ঠেকিয়ে দিল স্পেনকে। গোলশূন্য ড্রয়ের এই ম্যাচই হয়তো এই বিশ্বকাপের বড় আপসেট হয়ে থাকবে।
কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আয়তনে সবচেয়ে ছোট, তবে জনসংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। মাত্র সাড়ে ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশে একজন ভোজিনহাই আসলে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে গেছেন। প্রথমার্ধ সাক্ষী হয়ে আছে এই গোলরক্ষকের দুর্দান্ত তিনটি সেভের। দু-বার ঠেকিয়ে দিয়েছেন বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসকে।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক খেলেন পর্তুগিজ লিগের সেকেন্ড ডিভিশনে। দুই সপ্তাহ আগে চুক্তি শেষ হয়েছে, অর্থাৎ তিনি এখন কোনো ক্লাবে নেই। এমন এক গোলরক্ষকের দেয়ালে গোলের জন্য মাথা কুটে মরেছে স্পেন।
এবারের বিশ্বকাপে হট ফেভারিট হয়েই এসেছে স্পেন। তাদের বিপক্ষে নবাগত কেপ ভার্দে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলবে— এটাই স্বাভাবিক। কোচের কৌশল মেনে রক্ষণ সামলে গেছে সবাই মিলে। সেটা ভাঙ্গার জন্য কত চেষ্টাই না করেছে স্পেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে স্প্যানিশ কোচ ৭১ মিনিটে নামান ইয়ামালকে। তার বয়স ১৮ বছর ৩৩৭ দিন। বিশ্বকাপে ইউরোপের সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার নামার ২ মিনিটের মধ্যে সুযোগ তৈরি করে দেন বাঁ দিক থেকে। তাতে মেরিনোর শট সোজা চলে যায় গোলরক্ষক ভোজিনহার হাতে। এর আগে ৫৬ মিনিটে পেদ্রির ভাসানো চমৎকার বলে ফাবিয়ান রুইসের হেডও পারেনি ওই গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে। এরপরও মার্ক কুকুরেয়ার হেডের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শেষ দিকে ওলমো ও নিকো উইলিয়ামসকে নামিয়েও স্পেনের অবস্থা ফেরাতে পারেননি দে লা ফুয়েন্তে। কেপ ভার্দে শেষ পর্যন্ত মনে করিয়ে দিল ফুটবল কাগজে-কলমে লেখা গল্প নয়। কখনো কখনো জার্সির ওজনও কিছু নয়, হৃদয়ের জোরই শেষ কথা। কেপ ভার্দে ছোট দেশ কিন্তু প্রতিরোধ ছাড়িয়ে গেছে চীনের প্রাচীরকেও।



























