আর্জেন্টিনা সমর্থকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে সরকার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
আর্জেন্টিনা সমর্থকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে সরকার

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে আর্জেন্টিনা সরকার এক কঠোর ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নিজেদের সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন—এমন প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থককে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বুয়েনস আইরেস।

আর্জেন্টিনা সরকারের স্পষ্ট বার্তা হলো, যারা নিজেদের সন্তানদের আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনে উপস্থিত থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি এই অবস্থানের পক্ষে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ, তাদের কোনোভাবেই স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেওয়া হবে না।


এই নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে রয়েছে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামক একটি বিশেষ সরকারি কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, সেইসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যারা সন্তানদের ভরণপোষণ না দিলেও খেলা দেখার পেছনে ঠিকই অর্থ ব্যয় করেন। মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আর্জেন্টিনা সরকার এমন ব্যক্তিদের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে, যাদের বিরুদ্ধে আদালতে চাইল্ড সাপোর্ট বকেয়া রাখার প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে। আর্জেন্টিনা সরকার চায়, এই তালিকার কেউ যেন বিশ্বকাপে ম্যাচ দেখার সুযোগ না পান।

২০২৩ সাল থেকে কার্যকর হওয়া ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখেরও বেশি দর্শককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১ হাজার ১৬৬ জন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।


শুধুমাত্র ঋণখেলাপিরাই নয়, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সহিংস অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানান, সর্বমোট ১৫ হাজারের বেশি মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে কোনো ধরনের অপরাধ বা সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তি এই বৈশ্বিক আয়োজনে যেন কোনোভাবেই প্রবেশ করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে যারা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে।

Link copied!