তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি 

নাঈম হাসানকে হেনস্তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি: সিএমপি কমিশনার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
নাঈম হাসানকে হেনস্তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি: সিএমপি কমিশনার

শনিবার সকালে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এ ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার নিশ্চিত করেছেন। 

শনিবার (১৩ জুন) সকালে ক্রিকেটার নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিএমপি কমিশনার। 

হাসান মো. শওকত আলী বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশের কোনো সদস্যের অপেশাদার আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


তিনি জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাশেদ। একইসঙ্গে পুরো অভিযানে অংশ নেওয়া টিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার বলেন, “আমি নাঈম হাসানের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জেনেছি। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, জানিয়ে তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শওকত আলী স্বীকার করেন, দায়িত্ব পালনকালে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলেন, “পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে আইন মেনে পেশাদার আচরণ করা। সেই জায়গায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, “প্রাথমিকভাবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অবৈধ কিছু পরিবহনের তথ্যের ভিত্তিতে সেটিকে থামানো হয়েছিল। তবে, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং অভিযান পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা করবে।”

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে এক ব্যক্তি নাঈম হাসানকে মারধরে অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার বিষয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, “ওই ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। কেউ পুলিশের নাম ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাঈম হাসানকে হেনস্তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিক আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন। ব্যক্তিগতভাবে আমিও এই ঘটনার জন্য দুঃখিত। বাংলাদেশ পুলিশ কখনোই অপেশাদার আচরণকে সমর্থন করে না। কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়মের দায় পুলিশ বিভাগ বহন করবে না।”

Link copied!