ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরান ‘একাধিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও সংঘাতের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে এই হামলা চালানো হয়। সব ক্ষেপণাস্ত্রই ‘সফলভাবে প্রতিহত’ করা হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে ইরানের নির্দেশনায় চালানো ড্রোন হামলার জবাবে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও সৌদি বাহিনী বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এ বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ফেরার সুযোগ করে দিতে চলমান সংঘাতে যে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছিল, তা শেষ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ‘একাধিক সন্ত্রাসী রসদ ও অস্ত্রের স্থাপনায়’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, গত ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসির নির্দেশনায় চালানো ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার ‘জোরালো জবাব’ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের ‘সন্ত্রাসী মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে’ এসব হামলা বন্ধ করতে হবে, নইলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন তারা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসব ড্রোন ছুড়েছে।
এর এক দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তখন টানা তৃতীয় দিনের মতো দুই পক্ষের মধ্যে কোনো হামলা হয়নি।
এর আগে টানা ১৩ রাত ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন দাবি, এসব হামলায় দক্ষিণ ইরানের সুড়ঙ্গ ও সেতু ধ্বংস করা হয়েছে। হামলায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকার এখনো আলোচনার অন্যতম বড় বাধা। তেহরান অবশ্য এমন কোনো আলোচনা চলার কথাই অস্বীকার করেছে।
সংঘাত আরও বাড়লে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় বুধবার সকালে তেলের দাম বেড়েছে। এশিয়ার সকালে লেনদেনে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৭০ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ৪.২ শতাংশ বেড়ে ৮২.৬২ ডলার হয়।
ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর সফরের সময়ই সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটল। তিনি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও অংশ নেন।
পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর অন্তত ৬২৪ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪১৭ জন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-সংক্রান্ত হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
সূত্র: বিবিসি 

Link copied!