১৭৪ রানের লক্ষ্য। দেখতে বড়ই! তবে নিউজিল্যান্ডের এই দলটার সামনে এই লক্ষ্য খুব একটা বড় নয়। আর বিপক্ষ দলের নাম যদি হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাহলে তো কথাই নেই। চেন্নাইয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে আরব আমিরাতের দেওয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্য কিউইরা পেরিয়ে যায় কোনো উইকেট না হারিয়েই ১৬তম ওভারে। দলটির হাতে ছিল ২৮ বল।
তাতে রেকর্ডও হয়ে গেছে। টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেনই এখন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জুটির মালিক। তাঁরা ভেঙেছেন ২০২২ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের গড়া রেকর্ড। অ্যাডিলেডে সেদিনও প্রথম উইকেটেই ১৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে ১০ উইকেটে জিতিয়েছিলেন বাটলাররা।
রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার অ্যালেন ও সাইফার্ট পাওয়ারপ্লেতেই তুলে ফেলেন প্রায় অর্ধেক রান। প্রথম ৬ ওভারে দুজন মিলে করেন ৭৮ রান। প্রতি ২.৭৭ বলে এসেছে একটি করে বাউন্ডারি। মাত্র ২৩ বলে ফিফটি করেন সাইফার্ট, যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের যৌথভাবে দ্রুততম অর্ধশতক। আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ফিফটি করেছিলেন সাইফার্ট।
আজ অ্যালেন ফিফটি করতে খেলেছেন সাইফার্টের চেয়ে মাত্র ৪টি বল বেশি—২৭। দুজন ১০০ রানের জুটি গড়েন মাত্র ৫১ বলে, আর ১৫০ রান উঠে যায় ৭৯ বলেই। ম্যাচে এরপর আর কীই–বা বাকি থাকে! শেষ পর্যন্ত সাইফার্ট ৮৯ ও অ্যালেন ৮৪ রানে অপরাজিত থেকে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে আরব আমিরাত ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায় মূলত অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিমের সৌজন্যে। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে বরাবরই ধারাবাহিক পারফর্ম করা ওয়াসিমের জন্য এই ইনিংসটি ছিল নিজেকে প্রমাণের।
আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বেশি রান (৩১৫৫) এসেছে ওয়াসিমের ব্যাট থেকে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ছক্কাও মেরেছেন তিনিই—১৮৭টি।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অধিনায়ক বেশির ভাগ ম্যাচ খেলেন অপেক্ষাকৃত ছোট দলের বিপক্ষে। এর আগে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি খেলেছেন ৩টি ম্যাচ, যেখানে একটি ফিফটি ছিল—সেটিও নামিবিয়ার বিপক্ষে। তাই তাঁর অর্জন যে ফ্লুক নয়, তা প্রমাণ করতে আজকের ৪৫ বলে খেলা অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংসই যথেষ্ট।
নামিবিয়াকে হারিয়ে রান রেটে পাকিস্তানকে টপকে গেল নেদারল্যান্ডস
ওয়াসিমের এই ইনিংসেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ১৭৩ রানের সংগ্রহ তুলতে পেরেছে আরব আমিরাত। তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন ৩ নম্বরে নামা আলিশান শরাফু। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েছেন ৭৭ বলে ১০৭ রানের জুটি—টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পূর্ণ সদস্যদেশের বিপক্ষে সহযোগী কোনো দেশের যেকোনো জুটির মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। শরাফু খেলেছেন ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।
নিউজিল্যান্ড এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেলেছে এবং দুটিতেই জয় পেয়েছে। অন্যদিকে আরব আমিরাত তাদের প্রথম ম্যাচেই হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আরব আমিরাত: ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (ওয়াসিম ৬৬*, শরাফু ৫৫; হেনরি ২/৩৭, স্যান্টনার ১/২৩)।
নিউজিল্যান্ড: ১৫.২ ওভারে ১৭৫/০ (সাইফার্ট ৮৯*, অ্যালেন ৮৪*)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: টিম সাইফার্ট।






































