ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার তেজ এসে লেগেছে তেলের বাজারে। যার ফলে এ জ্বালানির দাম গত দেড় মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে হয়েছে ৯৭.৪৯ ডলার। এ দাম এখন আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তেলের দাম দ্রুত সময়ের মধ্যে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এ দাম ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে যুদ্ধ সাময়িকভাবে থেমে যাওয়ায় তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
এদিকে একই সময়ে ডাব্লিওটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
অয়েল প্রাইস ডট কমের তথ্য বলছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম উঠেছে ব্যারেল প্রতি ৯৭ দশমিক ৪৯ ডলার। যা আগের দিনের চেয়ে ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।
এর আগে ২৩ জুলাই প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছাড়িয়েছিল ১০০ ডলার। এর পরের সপ্তাহে দাম কিছুটা কমলেও ফের ঊর্ধ্বমুখী দাম।
গত ৪ মে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে উঠে যায়। সে সময় তেলের দাম কমাতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে নানাভাবে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে ওয়াশিংটন। দুপক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের ‘যুদ্ধবিরতি’ হওয়ায় সংঘাত সাময়িক থামে। তাতে কিছুটা স্বাভাবিক হয় তেলের বাজার।
আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ৯২ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত ২৩ জুলাই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উঠেছিল ৯২ দশমিক ১৯ ডলারে।
এরপর জ্বালানির দাম কমেছিল অনেকটা। ৫ আগস্ট ডব্লিউটিআই ক্রুডের তেলের দাম ৭৫ ডলারে নেমেছিল। তারপর থেকে এর দামও ঊর্ধ্বমুখী।
দুপক্ষের হামলা-পাল্টা অব্যাহত থাকায় তেলের দাম সহজে কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এরমধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হাজির করেছে তেহরান। সেখানে দেশটি নতুন একটি রুট অনুমোদন করবে এবং একটি নিষিদ্ধ অঞ্চল কার্যকর করবে। যা ওয়াশিংটন মানবে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে জ্বালানি পরিবহণে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো নিশ্চিতভাবে আরও সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।




























