ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। এনসিপির অর্ধশতাধিক নেতার একটি প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে জুলাই জাদুঘরে আসেন জুলাই আন্দোলন চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
জাদুঘরে কিছু জিনিস না থাকা নিয়ে অভিযোগ তোলেন নাহিদ ইসলাম। জুলাই জাদুঘরে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের’ চিত্র নেই, ‘বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে’ বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিশেষত, এখানে সীমান্ত হত্যার একটা সেগমেন্ট (অংশ) ছিল৷ আমাদের সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ভাইবোনদের একটা তালিকা ছিল, ফেলানীর একটা ভাস্কর্য ছিল৷ সেই জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতি ও ছবি ছিল, সেটাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে৷ যদি ভয় না পেত, তাহলে যেটা ইতিহাসের অংশ, সেটা কেন থাকবে না।
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায় নাহিদ ইসলাম এখন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জাদুঘর ঘুরে দেখার পর বেলা সাড়ে ১০টা থেকে আধঘণ্টা জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। পরে কথা বলেন উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে।
জুলাই জাদুঘর খুলে দিতে সংসদ ও সংসদের বাইরে প্রচুর কথা বলেছেন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি এই জাদুঘরের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছিলেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এখনকার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও সেদিন ছিলেন বলেন নাহিদ। সে সময় জাদুঘরের যে পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকে বর্তমান সরকার এসে কিছু পরিবর্তন করেছে বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, জাদুঘরের বর্তমান চিত্রে দল হিসেবে বিএনপির নির্যাতনের কনটেন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। দলীয় বক্তব্য ও বয়ান বেড়েছে। এই জাদুঘর সব সময় একটা একটা আপডেটের (হালনাগাদ) মধ্যে থাকবে বলেন তিনি।
যারা জাদুঘরের দায়িত্বে আছেন, তাদের কাছে মতামত দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জাদুঘর নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন নাহিদ৷
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যে সেগমেন্টগুলো রাখা হয়েছে, সেগুলোকে আরও এলাবোরেট (বাড়ানো) করা উচিত। টাইমলাইন ধরে ধরে বয়ানটা আসা উচিত। বিশেষত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকাগুলো আলাদাভাবে আসা উচিত। সেগুলো আলাদাভাবে এখানে আসেনি। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন জেলায়ও যে আন্দোলন হয়েছে, সেখানেও একই পরিমাণ নির্যাতন-নির্মমতা ও প্রতিরোধের গল্প আছে। সেই বিষয়গুলো আসেনি। পরিচিত মুখগুলো এখানে বারবার এসেছে।
জুলাই জাদুঘর স্বায়ত্তশাসিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। একদল এসেছে, পাঠ্যপুস্তক পাল্টে গিয়েছে, ইতিহাস পাল্টে গিয়েছে। আমরা চাই, জুলাই অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত যেকোনো ইতিহাস, বক্তব্য ও জাদুঘরের যাতে একটা জাতীয় চরিত্র থাকে। প্রকৃত সত্যটাই যেন সেখানে আসে৷’
জুলাই জাদুঘরে প্রচুর মানুষ আসছেন এবং সেই চাপ সামলানোর সক্ষমতা বর্তমান জাদুঘরের কাঠামোয় নেই উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, এখানে যথেষ্ট পরিমাণ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যারা গণ–অভ্যুত্থানে ছিলেন, অভ্যুত্থানকে ধারণ করেন, তাদের মাধ্যমেই এই জাদুঘর পরিচালিত হওয়া উচিত।
জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনের এই কর্মসূচিতে নাহিদ ও আখতারের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, মাহিন সরকার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ অনেকে।
























