মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চারশো মিলিয়ন ডলার খরচে বলরুম প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনকে শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। আদালতের এই সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প।
আদালত বলেছেন, ‘কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তিনি হোয়াইট হাউজকে এভাবে পাল্টে ফেলতে পারেন না। প্রত্যেক প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউজের সাময়িক ভাড়াটে, মালিক নন।’
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে ইস্ট উইং ভেঙে দিয়ে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুটের বলরুম নির্মাণ শুরু করেছিল। এরপর ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টরিক প্রিজারভেশন নামের সংস্থাটি মামলা করে। তাদের দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞায় বহাল রেখেছে আদালত।
আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকমণ্ডলী জানিয়েছেন, এত বিশাল বলরুম বানানো হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নেবে। নির্বাহী বিভাগ একা একা এটি করতে পারে না। আদালত তাদের রায় ১৪ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারে।
ট্রাম্প শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে এই প্রকল্পকে ‘মিলিটারি সেন্টার’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে। তিনি এই রায়কে ‘ভয়াবহ’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, বলরুমে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা সুবিধা ও ড্রোন-মিসাইল থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। তিনি লিখেছেন, ‘এই অন্যায় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টকে সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।’
ন্যাশনাল ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস বলেছেন, এই রায় দেশ ও জনগণের জন্য বড় জয়। হোয়াইট হাউজের মতো ঐতিহাসিক স্থান নিয়ে জনগণের মতামত প্রকাশের অধিকার রক্ষা পেয়েছে।
আগে জেলা আদালতও দুবার উপরের মাটির নির্মাণ স্থগিত করেছিল (ভূগর্ভস্থ কাজ চলতে দিয়ে)। সেই বিচারক ছিলেন রিচার্ড লিওন। ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আপিল করেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে, এই বলরুম বড় অনুষ্ঠান ও হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। কিন্তু আদালত বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দিয়ে আইন এড়ানো যায় না।
বিচারক (ডেমোক্র্যাটিক নিয়োগকৃত) প্যাট্রিসিয়া মিলেট ও ব্র্যাড গার্সিয়া বলেছেন, তাদের আদেশ স্থায়ীভাবে বলরুম বানানো নিষিদ্ধ করছে না। শুধু মামলা চলাকালীন এবং কংগ্রেসের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত উপরের মাটির কাজ বন্ধ থাকবে।
তারা আরও জানিয়েছেন, ‘নির্বাহী বিভাগ বেআইনিভাবে কাজ করতে পারবে, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করতে পারবে আর আদালত কিছু করতে পারবে না — এমন দাবি আমাদের সংবিধানকে অবজ্ঞা করে।’
ট্রাম্পের নিয়োগকৃত বিচারক নিওমি রাও ভিন্ন যুক্তি দিয়ে বলেছেন, আদালতের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে নির্মাণ বন্ধ করা হয়েছে। নির্মাণ চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
ট্রাম্প বলেছেন, খরচ বেড়েছে কারণ প্রকল্প আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বড় ও উন্নত মানের হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এটি জাঁকজমকপূর্ণ, নিরাপদ ও সুরক্ষিত হবে।
সূত্র : রয়টার্স





























