এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন।

তিনি জানিয়েছেন, একটি প্রতারণা মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

এর আগে গত মে মাসে প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। একইদিন তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের। লোকমুখে তথ্য পেয়ে ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য উভয়ের মধ্যে চুক্তি হয়।

ওই বছরের ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে মোশাররফ হোসেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। এমনকি সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেন তিনি।

এদিকে, রায়ের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বিদিশা সিদ্দিক মামলাটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। তিনি অন্য একজনকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলাটি করিয়েছেন।’
 

Link copied!