• ঢাকা
  • সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১,

বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে দারাজ


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে দারাজ

দেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস দারাজ ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটতে গিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ই-কমার্স জায়ান্টটি কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া অভ্যন্তরীণ এক বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছে। দারাজ বাংলাদেশের কর্মীদেরও তা পাঠানো হয়েছে।

দারাজ গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সিইও জেমস ডং-এর পাঠানো ‘মেসেজ ফ্রম দারাজ লিডারশিপ’ শিরোনামের ওই বার্তায় বলা হয়, “প্রিয় দারাজিয়ান। অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে দারাজের ব্যবস্থাপনা দল ও আমি আপনাদেরকে এক কঠিন খবর দিচ্ছি।”

বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশে চীনের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার সহযোগী দারাজ গ্রুপ তাদের ‘অনেক সম্মানিত সদস্যকে বিদায়’ জানানোর যে ঘোষণা দিয়েছে এর প্রভাব পড়বে দারাজের এ দেশের কার্যক্রমেও।

দারাজ বাংলাদেশ সূত্র জানিয়েছে, ছাঁটাইয়ের চাপ বর্তমানে প্রায় ৯০০ কর্মীর ৩৫ শতাংশের ওপর পড়তে পারে।

দারাজের ওয়েবসাইটে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেককে ‘বিদায়’ দিতে হচ্ছে।

শেষ উপায় হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশের অনেক কর্মীও ছাঁটাইয়ের তালিকায় আছেন।

গত মাসে জার্ক মিক্কেলসেন প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়ার পর জেমস ডং দায়িত্ব নেন।

সূত্র অনুসারে, দারাজ বাংলাদেশ চুক্তির ভিত্তিতে ৮০০-এর বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। তাদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

দারাজের এক কর্মী বলেন, “প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করতে কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে।”

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর ছাঁটাইয়ের ঘোষণাটিকে দেশের ই-কমার্স খাতে বড় ধাক্কা বলে মন্তব্য করেছেন।

অনেক তরুণ স্নাতক যারা ডিজিটাল কমার্স বিভাগে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তারা এখন নতুন করে ভাববেন।

‍‍`চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাকরির বাজার ইতোমধ্যে কঠিন হওয়ায় যারা দারাজ থেকে চাকরি হারাতে যাচ্ছেন, তাদের দ্রুত চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

২০১২ সালে পাকিস্তানে একটি ছোটখাটো অনলাইন ফ্যাশন আউটলেট হিসেবে যাত্রা শুরু করে দারাজ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। পরের বছর আরেক অনলাইন মার্কেটপ্লেস কিইমু অধীগ্রহণের মাধ্যমে নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ব্যবসা সম্প্রসারণ ঘটায় কোম্পানিটি।

২০১৮ সালে চীনের আন্তর্জাতিক ই-কমার্স মার্কেট প্লেস আলিবাবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর দারাজের সম্প্রসারণ আরও বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে দারাজ লাজিস্টিকস ব্যবসার দিকেও এগোয়।

২০২১ সালে কোভিড মহামারিকালে লকডাউন চলার সময়ে বাংলাদেশে তৈরি করা খাবার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কোম্পানি হাংরিনাকিকেও কিনে নেয় দারাজ।

Link copied!