করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা সক্ষম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১, ০৭:৩৮ পিএম
করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা সক্ষম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‍“দেশে করোনা সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এজন্য আমরা খুবই আনন্দিত। আজকে সংক্রমণের হার মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ। এই হার এক সময় ৩৩ শতাংশে ছিল। আজকে মৃত্যু দেখলাম ৪১। অথচ কয়দিন আগেও দৈনিক মৃত্যু ২৭০-এ উঠেছিল। আমরা অনেক লোক হারিয়েছি ইতোমধ্যে। এখন করোনা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।”

জাহিদ মালেক আরো বলেন, “করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বিধায় আমরা স্কুল খুলতে পেরেছি, শিল্প কারখানা খুলতে পেরেছি। আমদানি-রপ্তানি চলছে। করোনাকালেও রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে। আমাদের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের খাদ্যের অভাব হয়নি। করোনার উঠানামার সাথে দেশের উন্নয়ন উঠানামা করে। অনেক প্রভাবিত হয়। কিন্তু করোনার মধ্যেও আমাদের উন্নয়ন কাজ থেমে নেই। করোনা নিয়ন্ত্রণে ছিল, তাই বিদেশিরাও আমাদের দেশে থেকে কাজ করেছে।”

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, “আমি সব সময় বলি, নিয়ন্ত্রণটা এমনি এমনি হয় না। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটা হয়েছে। আমাদের সিএমএসডি কাজ করেছে, হাসপাতালের ডাক্তাররা কাজ করেছে, নার্সরা কাজ করেছে, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করেছে। যার কারণে আমরা করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সাহায্য সহযোগিতা করেছে। সবচেয়ে বড় বিষয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিন আমার সাথে কথা বলেছেন, আলোচনা করেছে। যখন যেটা আমরা চেয়েছি, উনার সম্মতি পেতে অপেক্ষা করতে হয়নি। টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি দিয়েছেন।”

জাহিদ মালেক আরো বলেন, “করোনাকালে স্বাস্থ্যসেবায় অনেক কিছু করতে হয়েছে। একটি ল্যাব থেকে ৮০০টি ল্যাব হয়েছে। আমাদের দেশে শুরুতে দৈনিক ১০০-২০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এখন প্রায় ৫০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। করোনা রোগির জন্য ১৭ হাজার আলাদা শয্যা রাখতে হয়েছে। আমাদের আইসিইউ ছিল ২০০-২৫০টি। সেটা বৃদ্ধি করে এক হাজার ৩০০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। করোনা রোগীদের জন্য আলাদাভাবে আরো এক হাজার আইসিইউ তৈরি করা হয়েছে। আমরা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল তৈরি করেছি।”

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার করাণে রোগির চাপ সামলানো গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল না হলে দেশের মানুষকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো। আমরা অক্সিজেন পেয়েছি, আমাদের নিজস্ব উৎপাদিত অক্সিজেনের বাইরে ভারতও লিকুইড অক্সিজেন দিয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রতিটি বড় হাসপাতালে এখন সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন আছে।”

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, “করোনা আমাদের দেখিয়ে গেছে আমরা কেউ আসলে নিরাপদ নই। করোনা আমাদের শিখিয়েছে, করোনা বিপদ প্রতিরোধ করার সর্বোত্তম পন্থা একসঙ্গে কাজ করা। বাংলাদেশ এবং ভারত গত ১৫ বছর ধরে বন্ধুর মতো একত্রে রয়েছে।”

বিক্রম দোরাইস্বামী আরো বলেন, “ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সময় বাংলাদেশ সরকার আমাদের জন্য ওষুধ পাঠিয়েছিল। এটি আসলে বাংলাদেশের আত্মার উষ্ণতা, হৃদয়ের প্রশস্থতা এবং মহানুভবতা প্রকাশ করে। আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোর্শেদ জামান প্রমুখ।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!