• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৭
৪৯ গায়েবি মামলা

নেপথ্যে রাজারবাগের পীর, হাইকোর্টের অসন্তোষ


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১, ০২:৪৭ পিএম
নেপথ্যে রাজারবাগের পীর, হাইকোর্টের অসন্তোষ

দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়। 

এর মধ্যে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। আর তার বিরুদ্ধে এসব ভুয়া মামলার নেপথ্যে রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের নাম উঠে এসছে তদন্তে।

সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে হাইকোর্টে ওই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে শুনানি এক সপ্তাহ মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার নেপথ্যে পীরের কারসাজির তথ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

৪৯ গায়েবি মামলার বাদীকে খুঁজে বের করা সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনায় করা সিআইডি প্রতিবেদনের ওপর রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ শুনানি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এমাদুল হক বসির। 

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও অরবিন্দ কুমার রায়।

এর আগে গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রতন কৃঞ্চ নাথ।

এর আগে এ বিষয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুন থানায় বা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করলে অভিযোগ দায়েরকারীর এনআইডি দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল জারি করে ৬০ দিনের মধ্যে ৪৯ মামলার ঘটনা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ডাকাতিসহ নানান অভিযোগে রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ‘অস্তিত্বহীন’ বাদীর করা ৪৯ মামলায় প্রতিকার চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের একই ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওইদিন আদেশের পর আইনজীবীরা জানান, যেকোনো মামলা বা অভিযোগ করার ক্ষেত্রে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি লাগবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল জারি করে ৬০ দিনের ৪৯ মামলার ঘটনা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী এমাদুল হক বসির বলেন, “ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তিনি এক হাজার ৪৬৫ দিন জেলে খেটেছেন। কিন্তু একটি মামলারও বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিবেচনায় তিনি অনেক মামলায় খালাস পেয়েছেন। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।”

এছাড়া রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (এসবি), অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (সিআিইড), মহাপরিচালক র‌্যাব, ঢাকার পুলিশ কমিশনারসহ ৪০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

 
 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!