বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ঘিরে প্রচারণায় সরব প্রার্থীরা


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ঘিরে প্রচারণায় সরব প্রার্থীরা

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। চৈত্রের দাবদাহ উপেক্ষা করে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন তারা; দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
শহর ও গ্রামে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন প্রার্থীরা।
৯ এপ্রিল এই আসনের উপনির্বাচন। ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতেই এই নির্বাচনি এলাকায় বইছে ভোটের হাওয়া। তবে প্রার্থীরা আদাজল খেয়ে মাঠে নামলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো ‘বাড়তি আগ্রহ বা উদ্দীপনা’ চোখে পড়ছে না।

এবারে ভোটের পরিবেশ কেমন জানতে চাইলে বিস্ময় প্রকাশ করেন পল্লীমঙ্গল বাজারের চা বিক্রেতা আবু হানিফ।

তিনি বলেন, “এই সেদিনি তো ভোট দিনু, আবার কিসের ভোট। তবে সগলি ভোট দিবার গেলে হামিও যামু।”

আবু হানিফের মত সাধারণ ভোটারদের মাঝে নির্বাচনের আগ্রহ এখনো তুলনামূলক কম।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারি প্রচার কম থাকায় গ্রামগঞ্জের অনেক সাধারণ মানুষ উপনির্বাচন সম্পর্কে অবগত নন। দলীয়ভাবে যতটুকু প্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে কিছুটা মানুষ জানতে পারছে।

মাটিডালী এলাকার মুদি দোকানি শহিদুল ইসলাম বলছিলেন, তাদের এলাকার দিকে কোনো দলের প্রার্থীই আসেননি। কবে ভোট হবে সেটিও ভালভাবে জানেন না তিনি।

তিনি বলেন, “নির্বাচন অফিসের উচিত ছিল ভোটটা ভালভাবে প্রচার করার।”

সদর উপজেলার নামুজা গ্রামের বাসিন্দা হাসেন আলী বলেন, “ভোটের দিনক্ষণ আমাদেরও জানা নেই। তবে সেদিন শিবগঞ্জ থেকে বিএনপির একদল নেতাকর্মী এসে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়েছেন।”

১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তবে একই সঙ্গে দুটি আসনের সংসদ সদস্য থাকা সম্ভব না হওয়ায় তিনি ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন।

পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

এ উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থী আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি)।

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন ঘিরে মাঠে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর সরব উপস্থিতি থাকলেও বিডিপি প্রার্থীর তেমন কোনো প্রচার, ব্যানার বা প্রচারপত্র চোখে পড়ছে না।

বগুড়া শহরের কলোনি এলাকার সেলুন কর্মচারি সাকিল বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী নির্বাচনের প্রচার চালাচ্ছে ঠিকই কিন্তু ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আলোচনা নেই। ভোটের প্রতি আগ্রহও কম।”

এবার কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত কম হবে বলে ধারণা সাকিলের।

শহরতলীর নারুলী এলাকার তোফায়েল আহাম্মদ বলছিলেন, “নিরুত্তাপ ভোট। ভোটারদের আগ্রহ কম। ১২ ফ্রেরুয়ারির নির্বাচনের আগে চা দোকান আর বিভিন্ন মোড়ে আলোচনা ছিল। এবার তা একেবারেই দেখা যাচ্ছে না।”

উপনির্বাচন নিয়ে ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছে, বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় আসনটিতে দলটির প্রার্থী ‘সুবিধাজনক অবস্থানে’ রয়েছেন।

অন্যদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জামায়াত প্রায় লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়েছিল। দলটির নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস, উপনির্বাচনেও যদি ওই পরিমাণ ভোট নিশ্চিত করা গেলে তাদের বিজয় ঠেকানো সম্ভব নয়।

১২ ফেব্রুয়ারির ওই নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৫৪ হাজা‌র ৪৩ জন। তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

ভোটে জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু? জানতে চাইলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দল তার ওপর যে আস্থা রেখেছে, সেটি রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

জয়ী হলে বগুড়া সদরের সার্বিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বগুড়ার উন্নয়নের অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে জনগণ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে রায় দেবে বলে আমরা আশা করছি।

“১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী প্রায় এক লাখ ভোট পেয়েছিল। এবারও এক লাখ ভোট পেলে আমরা জয়ী হব।”

বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার ফজলুল করিম বলেন, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪, পোস্টাল ব্যালট ভোটার ৩ হাজার ৭৩৬ এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন।

এই আসনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টি এবং ভোটকক্ষ ৮৩৫টি, যার মধ্যে স্থায়ী ৭৮৭ এবং অস্থায়ী ৪৮টি।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

ভোটের তিন দিন আগে থেকে ক্যামেরা সচল রাখা হবে এবং ভোট গণনাও ক্যামেরার আওতায় হবে।

সূত্র: বিডি নিউজ

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!