জ্বালানি তেলের দাম ‘সীমিত’ বাড়ানো হয়েছে: মাহদী আমিন


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
জ্বালানি তেলের দাম ‘সীমিত’ বাড়ানো হয়েছে: মাহদী আমিন

দেড় মাসের ব্যবধানে সরকার দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও তা ‘সীমিত’ পর্যায়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার (১ জুন) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশনা সম্পর্কে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সোমবার থেকে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকখানি বাড়ায় সরকার। সেই সময় ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়।

দুই দফায় দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর পৃথিবীর সব দেশেই বাড়ানো হয়েছে। যে কয়টা দেশ একদম শেষ মুহূর্তে দাম বাড়িয়েছে বা যতটা সম্ভব দেরি করে দাম বেড়েছে, বাংলাদেশ তার ভেতরে অন্যতম। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এখনো বাংলাদেশে তেলের দাম অনেকটাই কম।পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে শুরু করে আমাদের যদি এই অঞ্চলে দেখি আমাদের আলহামদুলিল্লাহ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যার কারণে মূল্যস্ফীতি আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।

তিনি বলেন,সামগ্রিকভাবে বিশ্বে যে তেলের যোগান রয়েছে, যে সরবরাহ রয়েছে এবং তার সঙ্গে যেভাবে মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করেই বাংলাদেশে হয়তো নীতিগতভাবে কিছুটা তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কারণ তেল তো আমাদের ইন্টার্নাল প্রোডাকশন না। আমাদের গ্লোবাল ডিপেন্ডেন্স রয়েছে, এটা আমদানি এবং ‘চেইনের’ উপর নির্ভর করছে। সুতরাং অন্যান্য বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যতটা সম্ভব সীমিত আকারে বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ‘পডকাস্টে’ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যে পরিমাণ গবেষণা করে, তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না।

দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত অর্থে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নয় বরং ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বা কোচিং সেন্টারের মত পরিচালিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন তার এ মন্তব্যের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোর যে অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে, ইতিহাসের প্রতিটি পরতে পরতে তা প্রমাণিত। ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান, প্রতিটা ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে অনন্য অসাধারণ ভূমিকা, এটি বাস্তবতা।

তিনি বলেন, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো যাত্রা কিন্তু শুরু হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়; ১৯৯২ সাল থেকে। স্বাভাবিকভাবে তাদের সেই সুদীর্ঘ ঐতিহ্যটুকু নেই, তবে সময়ের প্রবাহে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো ভালো করছে। আমরা জুলাই গণঅভ্যুথানে দেখেছি, যেটা সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেটা প্রাথমিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে। তারপর কিন্তু খুব কঠিন একটা সময় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এই বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে পাবলিক ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি সব শ্রেণীপেশার মানুষকে একসেঙ্গে নিয়ে।

বর্তমান সরকারের মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বলেন, এভাবে আমরা চিন্তা করি না। আমরা মনে করি প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একে অপরের পরিপূরক, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, আপনি যে বলেছেন, ডনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষের বিষয়, আমরা তো বুঝতেই পারছি যে এটা নিয়ে একটা অপ্রীতিকর বা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হতে পারত। সরকার হিসেবে আমাদের মূল দায়িত্ব দেশে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা। আমি বলব, যুগের চাইতে অগ্রসর একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আপনারা বলতে পারেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে…. যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সেটিকে চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মনে হয় সুন্দর সুষ্ঠ এবং সম্মানজনক সমাপ্তি হয়েছে অধ্যায়ের।

উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব মো. ‍সুজাউদ্দৌলা, সহকারি প্রেস সচিব নাজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।

Link copied!