প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফনের ধারায় সদ্য শেষ হওয়া মে মাসে দেশে এসেছে ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে টানা ছয় মাস রেমিটেন্স তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।
এ ছয় মাসে মোট রেমিটেন্স এসেছে ১৯ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। আর অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে মোট রেমিটেন্স ৩২ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ২৭৬ কোটি) ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তা ১৯ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। আর পুরো অর্থবছরের চেয়ে বেশি ৮ শতাংশ।
ইসলামী ব্যাংকের অনলাইন পর্ষদ সভাও বন্ধ, আন্দোলনে বাধাগ্রস্ত কার্যক্রম
প্রবাসীরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ২৭.৫১ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন। পুরো অর্থবছরে পাঠিয়েছিলেন ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার।
অপরদিকে একক মাসের হিসাবে মে মাসে আসা রেমিটেন্সের এ অঙ্ক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত মার্চে; ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার রেমিটেন্সের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া মে মাসে আসা রেমিটেন্সের (৩.৪২ বিলিয়ন ডলার) আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের মে মাসে প্রবাসীরা ২.৯৬ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের সদস্য ও স্বজনের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি টাকা পাঠানোয় মে মাসে বেশি রেমিটেন্স এসেছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। মার্চে যে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার এসেছিল, সেটা রোজার ঈদের কারণে এসেছিল বলেও মত তার।
চলতি অর্থবছরের বাকি এক মাস। চলতি জুনে এ হারে রেমিটেন্স এলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার প্রায় ৩৫.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে এখন ১২৩ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে মে মাসে ৪২ হাজার ১২৮ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনে গড়ে এসেছে ১১ কোটি ৪ লাখ ডলার; টাকায় ১ হজার ৩৫৯ কোটি টাকা।
রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আরিফ হোসেন বলেন, ‘‘ইরান যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি।’’
এদিকে রেমিটেন্সের ওপর ভর করে অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ বাড়ছে। সোমবার দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।









