ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেকমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা শেষে তার কফিন ঘিরে স্লোগান দিয়ে আটক হয়েছেন সাতজন।
রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের সামনে মরদেহবাহী গাড়ির ‘পথ আটকে স্লোগান ও বিশৃঙ্খলার’ অভিযোগে তাদের আটকের কথা বলেছে পুলিশ।
সোমবার বাদ মাগরিব এ মসজিদে জানাজা শেষে স্কয়ার হাসপাতালে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জিসানুল হক।
তিনি বলেন, “জানাজা শেষ করে গাড়িতে করে মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের দিকে যাওয়ার সময় ৫০-৬০ জন লোক পথ আটকে স্লোগান দিতে থাকে। তারা গাড়ি আটকে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে।”
এসময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সাতজনকে আটক করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায় বলে ভাষ্য এই পুলিশ কর্মকর্তার।
আটকদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘‘প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েলের জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে উপস্থিত অনেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন। ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদ এলাকা স্লোগানে ভরে ওঠে।’’
তখন সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়ে ওঠেন। তারা স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চালান। বাধার মুখেও স্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ অনেককে আটক করতে শুরু করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য। এসময় প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে রেখে অনেককে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
তবে পুলিশের তরফ থেকে সাতজনকে আটকের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েলের জানাজায় অংশ নেন।
এতে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান কাদের সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেকমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রথম জানাজার জন্য তোফায়েলের মরদেহ তাকওয়া মসজিদে নেওয়ার পর সেখানে ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ আওয়ামী লীগের আরও অনেকে।
বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বাঁক-বদলের সাক্ষী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ ৮৩ বছর বয়সে এদিন বিকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ হাসপাতালে আট মাস আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ধানমন্ডিতে জানাজা শেষে মরদেহ রাখা হবে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে।
এরপর মঙ্গলবার হেলিকপ্টার বা মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে করে ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে ভোলার দক্ষিণ গঙ্গাপুর এলাকার কোরালিয়া গ্রামে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে। এর আগে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ভোলা জেলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে।









