ঘরকে বলা হয় শান্তির গুহা। দিনশেষে সেই শান্তির জায়গাটি যেন থাকে ঝকঝকে তকতকে ও জীবাণুমুক্ত। আর সেজন্যে দেওয়া হল কিছু টিপস
চাদর এবং বালিশের কভার
দেখতে যতই পরিষ্কার দেখাক, বিছানার চাদর, বালিশের কভার বা পর্দা জাতীয় জিনিস অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করেন না। বিশেষ করে বিছানার চাদর ও বালিশের কভারে ঘাম, তেল, খুশকি ইত্যাদি মিশে অনেক বেশি নোংরা হয়। এগুলো নিয়মিত বিরতিতে পরিষ্কার না করলে নানারকম ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতি দুই সপ্তাহে একবার অন্তত এগুলো বিছানার চাদর ও বালিশের কভার, কুশন কাভার, কাথা ইত্যাদি গরম পানি দিয়ে ধোয়া উচিৎ।
বেসিন ও সিংক
এগুলো প্রতিদিন ধোয়া উচিৎ, যেহেতু সবচেয়ে বেশি নোংরা হয়। সবচেয়ে বেশি নোংরা বলা হচ্ছে কারণ দাঁত ব্রাশ, মুখ ধোয়া, হাত ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় বেসিন। আর রান্নাঘরের সিংকে থালাবাসন ও খাবার জিনিস ধোয়ার কারণে এখানে ময়লা, খাদ্যকনার পাশাপাশি তেল ও নানারকম জীবাণু লেগে থাকে। তাই প্রতিদিনই একবার করে এগুলো পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে সিংকে কাঁচা মাছ বা মাংস ধোয়ার পর অবশ্যই ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন।
কার্পেট, পাপোস এবং রাগস
এক থেকে দুই সপ্তাহ পরপর এগুলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা উচিৎ। আর বাড়িতে যদি পোষা প্রাণী থাকে সেক্ষেত্রে প্রতি প্রতিদিনই ঘর মুছতে হবে জীবণুনাশক ক্লিনার দিয়ে।
বাথরুম
বলা হয় ঘরের এই জায়গায় সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই সপ্তাহে একদিন বাথরুম পরিষ্কার করুন। বাথরুমের সিংক এবং টয়লেটের ছয় ফিট নিচে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাই সপ্তাহে একদিন এগুলোতে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও বাথরুমের শাওয়ারের পর্দা, বাথটাবও দুই সপ্তাহ পরপর ডিপ ক্লিন করুন।
তোয়ালে
গোসলের তোয়ালে স্ট্যাফ এবং ফেক্যাল ধরণের ব্যাকটেরিয়ার ভান্ডার বলা যায়। গা মোছার কাজে ব্যবহৃত গামছা বা তোয়ালে ভেজা থাকলে এসবের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়াও চুলে খুশকি হওয়ার জন্য দায়ী ফাঙ্গিও জন্মাতে পারে। অন্যদিকে রান্নাঘরের তোয়ালেতেও নানারকম ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। তাই প্রতি সপ্তাহে একদিন এগুলো গরম পানি দিয়ে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ধুতে হবে।
বাসন মাজার স্পঞ্জ
একটি বাসন মাজার স্পঞ্জের প্রতি স্কয়ার ইঞ্চি জায়গায় কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকবে। তবে এর সবগুলোই যে ক্ষতিকর, তা না। শুধু সাবান আর পানি দিয়ে ধোয়া তাই নিরাপদ না। স্পঞ্জগুলো সাধারণত ফুটন্ত পানিতে অন্তত দুই মিনিট ধরে ডুবিয়ে রেখে ধুতে হবে। দুইদিন পরপর এভাবে ধুলেই ভালো হবে।
দরজার হাতল ও নব
পুরো বাসা ঝকঝক করলেও আমরা দরজার হাতল, নব ইত্যাদি পরিষ্কারের কথা ভুলে যাই। অথচ এগুলোও কিন্তু জীবাণুর আধার। বিশেষ করে বাড়ির প্রধান দরজা, বাথরুম ও রান্নাঘরের দরজা।তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন এগুলো জীবাণুনাশক ব্যবহার করে মুছে ফেলতে হবে।




































