প্রায় ১০০০ দিন! নিখুঁত হিসেব চাইলে ৯৮০ দিন পর ব্রাজিলের জার্সি গায়ে চাপালেন নেইমার। নিখাদ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই সময়টা যেন ছিল এক অনন্তকাল। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে চিরচেনা ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন তিনি। গ্যালারিতে তখন করতালির গর্জন। প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে কেমন পারফর্ম করলেন এই তারকা?
জিলের ৩-০ ব্যবধানে জেতার ম্যাচে শেষ ১৫ মিনিট মাঠে ছিলেন নেইমার। ব্রাজিলের জনপ্রিয় ফুটবল শো ‘সেলেসাও কোপা’ অনুষ্ঠানে ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক তারকাদের কণ্ঠে ঝরল শুধুই নেইমার-বন্দনা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক আন্দ্রে রিজেক নেইমারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘চলতি বিশ্বকাপে নেইমার এমন এক অস্ত্র, যা বেঞ্চে রাখার বিলাসিতা পৃথিবীর আর কোনো দলের নেই। ম্যাচের ভাগ্য এক নিমেষে বদলে দেওয়ার মতো টেকনিক্যাল কোয়ালিটি আর ফিনিশিং দক্ষতা বেঞ্চে বসে থাকা এই মানুষটির ছাড়া আর কার আছে?’
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর মনটিভিডিওতে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ হাঁটুর লিগামেন্ট ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর জাতীয় দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন নেইমার। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর কাল যখন মাঠে নামলেন, তখন আবেগ ছুঁয়ে গিয়েছিল এই মহাতারকাকেও। রিজেক যোগ করেন, ‘নেইমারকে বেশ আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন বলের ছোঁয়া না পেয়েও সে যেভাবে খেলল, তা আমার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।’
ব্রাজিলের সাবেক ফরোয়ার্ড পাওলো নুনেস মাঠে নেইমারের পায়ের জাদু দেখে মুগ্ধ। তিনি বলেন, ‘মাঠে নেমেই ভিনিসিয়ুসের উদ্দেশ্যে ও যে পাসটা বাড়াল, আপাতদৃষ্টিতে তা সহজ মনে হতে পারে। কিন্তু বল যেভাবে ওর পায়ে লেগেছিল, সেখান থেকে ওই কোণ তৈরি করে পাস দেওয়াটা অবিশ্বাস্য, প্রায় অবাস্তব! ওর এই ফেরাটা দলের জন্য দারুণ এক বার্তা।’
অবশ্য সাবেক সতীর্থ রেনাতো অগুস্তো মনে করেন, নেইমারকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘তার এখনো ম্যাচ টাইমিং বাড়ানো প্রয়োজন। এমন বড় চোটের পর মাঠে নেমে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সময় লাগে। তবে সে যে সাধারণ ফুটবলারদের চেয়ে অনেক ওপরে, সেটা আজকের ম্যাচের পাসগুলোতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো প্রতিপক্ষ তাকে সমীহ করতে বাধ্য।’
নেইমারের এই ফেরা কেবল ব্রাজিলকে কেবল শক্তিশালী করেনি, প্রতিপক্ষ দলগুলোর চিন্তাও বাড়িয়েছে। সাবেক ফুটবলার ফিলিপ মেলো মনে করেন, নেইমার শতভাগ ফিট হয়েই মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল টিম ও কোচিং স্টাফ যখন তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছে, তার মানে সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। এখন শুধু ম্যাচের ছন্দে ফেরার অপেক্ষা। কারণ টেকনিক্যাল দিক থেকে তো নেইমারকে নতুন করে কিছু শেখার নেই।’


































