আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ট্রাম্পের দূত ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ১১:০২ এএম
আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন ট্রাম্পের দূত ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তির প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে। আলোচনার লক্ষ্যে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি উভয়ই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।


শুক্রবার (১৯ জুন) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে ৬০ দিনের সময়সীমা রেখে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। কিন্তু লেবাননে হঠাৎ উত্তেজনা বাড়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তবে শুক্রবার বিকেলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগ দিতে গেছেন।


অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি শনিবার (২০ জুন) সেখানে পৌঁছাবেন বলে কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহায়তায় লেবানন সময় শুক্রবার বিকেল ৪টায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও হিজবুল্লাহর সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর আগের কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৪৭ জন নিহত হন এবং ৪ ইসরায়েলি সেনা মারা যান।


যুদ্ধবিরতির প্রথম এক ঘণ্টায় কিছু বিচ্ছিন্ন হামলা হলেও পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
এই সম্ভাব্য ব্যাপক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। তবে এই আলোচনায় অংশ না নেওয়া ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির পক্ষ নয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।


ইরানের অবরুদ্ধ থাকা হাজার কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে। ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল ও আর্থিক প্রণোদনা থাকবে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে।
সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ওয়াশিংটনে এই চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধীদের দাবি, যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করে দিয়েছে। আমরা মরিয়া হয়ে আলোচনায় বসিনি, ইরান হয়েছে। ওরা শেষ! আমরা ৬০ দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করব। (শর্ত পূরণ না করলে) ওরা কোনো টাকা পাবে না, এক পয়সাও না!

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। লেবানন সরকার জানিয়েছে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতিই হবে এই আলোচনার মূল ভিত্তি।

Link copied!