সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড করা হবে সরাসরি সম্প্রচার। ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। এটি কার্যকর হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।

একই সঙ্গে প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে প্রথমবারের মতো কোনো মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য যেন মানুষ দেখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। তার ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষের জানা প্রয়োজন।

পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে সম্প্রচারটি কোন মাধ্যমে দেখানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে তিনি গুলি চালিয়ে ১৩ সেনাকে হত্যা করেছেন। এতে আহত হন আরও ৩২ জন।

ঘটনাটি ঘটে ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে। সেখানে মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া সেনারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

আদালতে হাসান স্বীকার করেছিলেন, গুলি চালানো ব্যক্তি তিনি। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতে বিচার চলাকালে তিনি দাবি করেন, মুসলিম ও আফগানিস্তানের তালেবানকে রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি হামলা চালিয়েছিলেন। আদালতে নিজের কিছু ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি।

সামরিক আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি উচ্চতর আদালতে আপিলের প্রক্রিয়া এবং দণ্ড কার্যকরের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনাও জরুরি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিলস বলেছেন, হাসানের আপিলপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তিনি ফেডারেল আদালতে তার দণ্ড ও সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া স্থগিত হতে পারে।

মিলসের মতে, সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগটি নজর কাড়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আলাপ অবাস্তব।

ইয়েল ল’ স্কুলের ভিজিটিং লেকচারার ইউজিন আর ফিডেলও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা মধ্যযুগীয় ধারণার মতো। হাসান আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে পুরো প্রক্রিয়া আরও কয়েক বছর ধরে চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৬১ সালে। সে সময় ১১ বছর বয়সী এক অস্ট্রীয় শিশুকে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত এক সেনাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

আর ফায়ারিং স্কোয়াডে সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সেনাবাহিনী থেকে পালানোর দায়ে এডি স্লোভিক নামের এক মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সূত্র : বিবিসি

Link copied!