• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১, ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

পরীক্ষার রুটিন না পেলে আত্মহত্যার হুমকি কুবি শিক্ষার্থীর


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২১, ০৬:১৮ পিএম
পরীক্ষার রুটিন না পেলে আত্মহত্যার হুমকি কুবি শিক্ষার্থীর

সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে পরীক্ষার রুটিন না পেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘Comilla University’ গ্রুপে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছেন সেই শিক্ষার্থী ৷

জানা গেছে, আত্মহত্যার ঘোষণা দেওয়া শিক্ষার্থীর নাম আনিসুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের একজন শিক্ষার্থী।

স্ট্যাটাসে আনিসুর রহমান লিখেছেন, “আমি কুবির বুকে শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করব। আত্মহত্যার ডেট (তারিখ) হয়তো আর পেছাতে পারছি না! চার বছরে ৪ সেমিস্টার অপেক্ষার অবসান কোথায়? আত্মহত্যা ছাড়া কোনো সমাধান দেখছি না। কারণ আমার বর্ষের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের অনার্স শেষ। ন্যাশনালে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ৪র্থ বর্ষে পড়েন। আমার এক বছরের ছোট জাবিতে পড়ুয়া বোন আমার বর্ষের। কুবিতে ভর্তি হওয়াটা কি আমাদের অপরাধ ছিল?”

আনিসুর রহমান আরও লিখেছেন, “পরিবারে যখন অভাব আর অসুস্থতা থাকে তখন স্বপ্নগুলো কতোটা লজ্জা পায়। যেটা হয়তো প্রশাসন হয়তো বুঝবে না। কারণ উনাদের মাস শেষে একাউন্টে বেতন ঢুকে যাচ্ছে  অভাব বলতে কিছু নেই। অনার্স প্রথম আর শেষ বর্ষ বুঝি না। সকল ব্যাচের এক সঙ্গেই পরীক্ষা শুরু করতে হবে কেননা সবাই জটে আছে। সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে পরীক্ষার রুটিন না পেলে আমি কুবির বুকে শহীদ মিনারে আত্মহত্যা করব।”

আত্মহত্যার স্ট্যাটাসের ব্যাপারে জানতে আনিছুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি সজ্ঞানে, ভেবে-চিন্তেই এই লেখাটি লেখেছি। আমাদের সেশনজটের কারণে জীবনের স্বপ্নগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এনএম রবিউল আউয়াল চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি যাতে কোনো কিছু করার আগে আমার সঙ্গে কথা বলে। আর বিভাগের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। করোনার কারণে সবাই তো পিছিয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের সেশনজট কমাতে অনলাইন পরীক্ষার দিকে অনেক দূর এগিয়েছি।

কুবিতে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সশরীরে পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ যেখানে কেবল স্নাতকোত্তর ও স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এর আগে কেবল স্নাতকোত্তর দিয়ে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি শিক্ষার্থীদের সমালোচনার প্রেক্ষিতে পরিবর্তন করে স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  অন্যান্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও সেটারো কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই ৷

Link copied!