• ঢাকা
  • শনিবার, ০২ মার্চ, ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০, ২০ শা’বান ১৪৪৫

বিলের মাঝে স্কুল, সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় চারপাশ


বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৩, ০৬:৩০ পিএম
বিলের মাঝে স্কুল, সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় চারপাশ

বরগুনার তালতলীতে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে ‘উত্তর কড়ইবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ যাতায়াতের একমাত্র সড়ক। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৪০ সালে ৬৬ শতাংশ জমির ওপর ১০ নম্বর উত্তর কড়ইবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি পাকা ভবন থাকলেও সেটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ হিসেবে অস্থায়ীভাবে একটি টিনশেড ঘর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিলের মাঝে হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি তলিয়ে যায়। গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিদ্যালয়ের চারপাশসহ চলাচলের সড়কটি চলিয়ে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে শিশুরা আসা-যাওয়া করছে। শুধু এই প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সেখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়েছেন।

রহিম মিয়া, নজরুল গাজী, হেমায়েত হোসেনসহ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিলেও কখনো সড়কটি সংস্কার করেননি। পয়ত্রিশ বছর ধরে এভাবে চলছে। কাদা-পানি মাড়িয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না। তাদের জোর করে পাঠাতে হয়। তাই আমাদের দাবি, সড়কটি উঁচু ও পাকা করে দেওয়া হোক।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলে, “প্রতিদিন দুইটা পোশাক নিয়ে স্কুলে আসি। কারণ কাদার মধ্যে হাঁটতে গেলে অনেক সময় পড়ে যাই। তখন স্কুলে এসে সেটা পরিবর্তন করে ফেলি। অনেক সময় স্কুলে আসতেও পারি না।”

পঞ্চম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলে, “কাদা-পানির মধ্যে স্কুলে আসতে ইচ্ছা করে না। প্রতিদিনই কাপড় ও বই-খাতা ভিজে যায়।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিদা বেগম বলেন, “সামান্য বর্ষায় সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। বর্তমানে ভারী বৃষ্টিতে সড়কটি পুরো তলিয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে খুবই কষ্ট হয়। কেউ পানি-কাদার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”

এ ব্যাপারে কড়বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম শিকদার পনু বলেন, গত অর্থবছরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। আগামী অর্থবছরে পরিষদ থেকে সড়কটি সংস্কার করা হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, “বিদ্যালয়টি নিয়ে কখনোই শিক্ষকরা আমার কাছে আসেননি বা কখনো চিঠিও দেননি। আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে যা কিছু দরকার সব ব্যবস্থা করে দেবো।”

Link copied!