ধর্ষণের পর হত্যা, তরুণীর পরিচয় মিলেছে


বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৩, ০৮:০৬ পিএম
ধর্ষণের পর হত্যা, তরুণীর পরিচয় মিলেছে

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কাথম বেড়াগাড়ী সরিষাক্ষেত থেকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধারের ছয়দিন পর পরিচয় মিলেছে। তার নাম শারমিন আক্তার (১৮)। তিনি ফরিদপুরের সদরপুর থানার ভাষাণচরের হেলালউদ্দিন খাঁর ডাঙ্গী এলাকার রাজমিস্ত্রি শাহিন খানের মেয়ে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ওই তরুণীর পরিচয় মিলে। তার মা নূর নাহার নন্দীগ্রাম থানায় এসে আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে নিজের নিখোঁজ মেয়ে বলে দাবি করেছেন।

নূর নাহার জানান, তার মেয়ে শারমিন অবিবাহিত। গত ২ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে ১০ জানুয়ারি সদরপুর থানায় জিডি করেছিলেন তরুণীর মা নূর নাহার। শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) নন্দীগ্রামের বেড়াগাড়ীর পূর্ব মাঠের জনৈক তোতা মিয়ার সরিষাক্ষেত থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরনে ছিল কালো রংয়ের বোরকা এবং বেগুনি রংয়ের ওড়না। তরুণীর হাতে মেহেদি দিয়ে ‘বি+এস’ লেখা ছিল।

নন্দীগ্রামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ওই তরুণী ৫-৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তরুণীর স্যান্ডেল আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। মধ্যরাতের শেষভাগে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী তার পরিচিত কেউ হতে পারে।

এদিকে ওই তরুণীর মা বলেন, তার এক ছেলে-মেয়ে। শারমিন বড়। সদরপুর থানার ভাষাণচর নতুন বাজার এলাকার একটি স্কুলে শারমিন আক্তার অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এলাকার এক ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যেকারণে শারমিনের পড়াশোনা বন্ধ করে দেয় পরিবার। বাড়ি থেকে নিখোঁজের ১৭ দিন পর শারমিনকে ফিরে পেয়েছেন। তবে জীবিত নয়, মৃত।

তরুণীর মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “কী অন্যায় ছিল আমার মেয়ের। একেবারে জানে মেরে দিল।”

ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে না পারায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এক নারী থানায় এসে আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে নিজের নিখোঁজ মেয়ে বলে দাবি করেছেন। এজন্য ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে।

ওই তরুণীকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে প্রশ্ন করা হলে ওসি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে হত্যা বা মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ধর্ষণকারী বা হত্যাকারী কতজন তা বলা যাবে।

Link copied!