ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মাগুরার সদর আমলি আদালতে শহরের ভায়না এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
এরআগে ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় রাসেল ও শামিমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন মো. কামরুল ইসলাম চকদার। একই মাসের ১৬ তারিখ গুলশান থানায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক ব্যক্তি।
মাগুরার সদর আমলি আদালতের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরে তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্য্যাডভোকেট ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল জানান, বাদী হাবিবুর রহমান গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ্যাপাচি ফোরভি আরটিআর মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম নগদের মাধ্যমে ইভ্যালি কোম্পানিতে টাকা জমা দেন।
ইভ্যালির সার্কুলার অনুযায়ী টাকা জমা দেওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দেবে। কিন্তু আসামিরা নির্দিষ্ট সময়ে বাদীকে পণ্য দিতে পারেনি। পরবর্তিতে আসামিরা তাদের পণ্য কম থাকায় বাদীকে কুরিয়ার সাভির্সের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি চেক পাঠায়। চেকটি নগদানের জন্য বাদী নিজ নামীয় ব্যাংক একাউন্টে জমা করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অপর্যাপ্ত তহবিল জানিয়ে চেকটি ফেরত দেয়।
ওয়াসিকুর রহমান কল্লোল আরও জানান, পরে টাকা পরিশোধের জন্য আসামিদের কাছে ডাকযোগে রেজিস্ট্রিকৃত আইনী নোটিশ দেওয়া হয়। আসামিরা আইনি নোটিশ প্রাপ্তির পরও টাকা পরিশোধ না করে তারা চেক দিয়ে বাদীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আজ দুপুরে সদর আমলি আদালতের বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিকেলে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আগামী ২১ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
১৮ সেপ্টেম্বর রাসেল এবং শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. কামরুল ইসলাম চকদার বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন।
১৯ সেপ্টেম্বর সকালে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, “কামরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে ইভ্যালির সিইও রাসেলকে আসামি করা হয়েছে।”
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, “ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।”
ওসি আরও বলেন, মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাসেল এবং তার স্ত্রী বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়।
আরিফ বাকের নামের এক ব্যক্তি গুলশান থানায় মামলাটি করেন।
আরিফ বাকের বলেন, ইভ্যালির বিজ্ঞাপন দেখে প্রভাবিত হয়ে তিনি ৩ লাখ ১০ হাজার টাকার পণ্যের অর্ডার দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে তাকে কোনো পণ্য সরবরাহ করা হয়নি।
পণ্যের ব্যাপারের ইভ্যালির অফিসে এবং পরে সিইও মো. রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার নিলয় কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংয়ের (হাউজ ৫/৫এ, স্যার সৈয়দ রোড) বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। মাত্র আড়াই বছরের মাথায় ৫৪৩ কোটি টাকার দায়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এত অল্প সময়ে এই বিপুল টাকা কোথায় গেল, তার হদিস এখনও মেলেনি।
আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত জুলাই মাসে দুদকের আবেদনে ইভ্যালির শীর্ষ কর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।




































