ধর্ষণের পর হত্যা: দুইজনের ফাঁসি কার্যকর


যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২১, ১০:৩৩ এএম
ধর্ষণের পর হত্যা: দুইজনের ফাঁসি কার্যকর

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই বান্ধবী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। দুই আসামি হলেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের আজিজুল ওরফে আজিজ (৫০) ও মিন্টু ওরফে কালু (৫০)।

সোমবার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। 

স্থানীয় খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে দুই পরিবারের ৭ সদস্য কারাগারে আসেন আজিজ ও কালুর লাশ নিতে। এ সময় তাদের দুজনের জন্য পৃথক দুটি অ্যাম্বুলেন্স ছিল।

ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় কালু ও আজিজুল সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে কাঁদতে থাকেন। দুজনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। রাতেই তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার ‍তুহিন কান্তি খান বলেন, “আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিট ও ১০টা ৫০ মিনিটে আজিজ ও কালুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জন, চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।”

জেলার আরও বলেন, “দুইজনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়। তারা রোববার ইলিশ মাছ, গরুর কলিজা, তন্দুর রুটি ও মুরগির গ্রিল খেয়েছেন। আজ (সোমবার) মুরগির মাংস, দই খাওয়ানো হয়েছে।”

জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আলমডাঙ্গা থানার জোড়গাছা গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয় রায়লক্ষ্মীপুর মাঠে। এ ঘটনায় পরদিন নিহত কমেলা খাতুনের মেয়ে নারগিস বেগম আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুজনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। অপর দুজন হলেন একই গ্রামের সুজন ও মহি। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান আসামি মহি। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুজন, আজিজ ও মিন্টুকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এরপর আসামিপক্ষের লোকজন হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১২ সালে ১১ নভেম্বর নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের ২৭ জুলাই তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেন। আবেদন নামঞ্জুর-সংক্রান্ত চিঠি গত ৮ সেপ্টেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Link copied!