কৌশলে অনলাইনে পণ্য অর্ডারকারী নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে যৌন সম্পর্ক গড়তে চাপ দেওয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মো. মিজানুর রহমান ওরফে আল-আমিন (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রেজোয়ান আহমেদ এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার আল-আমিন জামালপুরের চরগাঁওকোড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি একটি সুপরিচিত অনলাইন শপের ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করছেন।
ভুক্তভোগী এক তরুণীর পরিবারের অভিযোগের পর শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে আল-আমিনকে গাজীপুর শহরের রথখোলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ই–কমার্স সাইটে পণ্য অর্ডার করা তরুণীদের টার্গেট করতেন মিজানুর। এরপর পণ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে কৌশলে গ্রাহকের মোবাইল ফোন হাতে নিতেন। সহজে পণ্য ডেলিভারির জন্য গুগল লোকেশন যুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে তিনি নারীদের মুঠোফোনের গুগল ফটো অ্যাপে যেতেন। এই অ্যাপের শেয়ারিং অপশনে গিয়ে ‘শেয়ার উইথ পার্টনার’ অংশে নিজের ব্যক্তিগত জি–মেইল অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে দিতেন। কাজটি শেষ করতে সময় নেন এক থেকে দুই মিনিট। পরবর্তী সময়ে সুবিধামতো সময়ে মুঠোফোনের গুগল ফটোতে ঢুকে ওই নারী ক্রেতার গুগলে থাকা সব ছবি নিজের মুঠোফোনে ডাউনলোড করে নেন। এরপর তরুণী ও নারীদের ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করেন।
পুলিশ জানায়, গাজীপুর শহর এলাকার এক ব্যক্তি শুক্রবার বিকেলে সদর থানায় অভিযোগ করেন, তার মেয়ের (১৫) ব্যক্তিগত কিছু ছবি নিয়ে একজন ‘ডেলিভারিম্যান’ টাকা দাবি করছেন। টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এতে তাঁর মেয়ে লোকলজ্জার ভয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
অতিরিক্ত উপকমিশনার রেজোয়ান আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার আসামি মিজানের মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী এমন অনেক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত ও আপত্তিকর ছবিবসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ১১টি ইমেইল আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোাগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া এই যুবক জামালপুরের একটি হত্যা মামলার আসামিও।





































