রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ৪ নং ফেরিঘাট এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি বসতভিটা পদ্মায় বিলীন হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া ৪ নং ফেরিঘাটটিও।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তেই বিলীন হতে থাকে বসতভিটা এবং মসজিদ।
সরেজমিন দেখা যায়, একটি মসজিদের এক-তৃতীয়াংশসহ অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনরোধে কাজের গতি কম। আর শুকনো মৌসুমে কাজ না করার কারণেই এখন ভাঙনের কবলে পড়েছেন এই এলাকার মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক কাজী বলেন, “এইখানে অন্তত ৩-৪ টা মৌজায় জমি ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সময়মতো দৃষ্টি না দেওয়ায় তা আজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা প্রতিবছরই তাদের বলেছি। তারা আমাদের কথা কানেই তুলেনি।”
আরেক বসতভিটাহারা নাসিমা বেগম বলেন, “এখন আমরা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে কই যাব? কী খাব? এখন তো আমরা খোলা আকাশের নিচে একবারে নিঃস্ব হয়ে বসে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল বলেন, “আর কয়েক মিটার দূরেই ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক। যদি এখনো শুধু লোকদেখানো কাজ করা হয়, তাহলে অচিরেই এই মহাসড়কটিও নদী গর্ভে চলে যাবে।”
আসিফ মণ্ডল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আরও যদি ২ সপ্তাহ আগে মাত্র ২ বলগেট (বালুভর্তি ট্রলার) বালু ফেলা হতো তাহলে হয়তো মসজিদটি রক্ষা করা যেত। কিন্তু তখন কাজ করেনি। এখন দেখেন ৬-৭টি বলগেট দিয়ে বালি ফেলছে।”
দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, গোয়ালন্দ উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা মুন্সি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান মামুন, দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রহমান মণ্ডল।
দৌলতদিয়া ২ নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) আশরাফুল ইসলাম জানান, ভাঙন আতঙ্কে এলাকার অর্ধশত বসতবাড়িসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট এবং ঘাট এলাকার বসতবাড়ি।
বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী মকবুল হোসেন জানান, ভাঙনরোধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, ভাঙনরোধে এই এলাকায় স্থায়ী কাজ হবে। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে কাজ করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী প্রকৌশলী মকবুল হোসেনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে শুকনো খাবার ও বাড়ি নির্মাণের জন্য টিন দেওয়া হবে।





































