আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে সপরিবার নিহত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের যারা প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন তাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিমল সাহা।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের বাসিন্দা পরিমল সাহা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। হৃদরোগসহ নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। তার স্ত্রীও কিডনি রোগে আক্রান্ত। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন দেশের এই সূর্য সন্তান ও তার স্ত্রী। পৌর শহরের উত্তর বাজারে জরাজীর্ণ ঘরে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটছে তার।
জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের টানে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন পরিমল। স্বাধীনতাযুদ্ধে বকশীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক রণাঙ্গন ধানুয়া কামালপুর ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে বিভিন্ন অঞ্চলে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। এছাড়া টাঙ্গাইল ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধকালীন তার কমান্ডার ছিলেন কোম্পানি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ হোসেন। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভর্তি হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা সপরিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে ন্যক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন পরিমল সাহা। বেশির ভাগ মানুষ যখন ভয়ে চুপ, তখন পরিমল সাহা ঢাবির অন্যসহ পাঠীদের সঙ্গে দেয়ালে দেয়ালে হত্যার বিচার চেয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন। মিছিল করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তিনি তৎকালীন সামরিক সরকারের রোষানলে পড়েন। বাধ্য হয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। তিনি কাদেরিয়া বাহিনীর অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৭৭ সালের ৩০ মে হালুয়াঘাট সীমান্তে সামরিক বাহিনীর হাতে আটক হন পরিমল সাহা। আটকের পর তার ওপরে চলে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন। দুই বছর পর নির্যাতন সেল থেকে মুক্তি পান তিনি। সেই নির্যাতনে তিনি মানসিকভাবে কাজের কর্মক্ষম হারিয়ে ফেলেন। এরপরেও বিভিন্ন সময়ে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়া তার আর কোনো সহায় সম্বল নেই। মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতাই তার একমাত্র ভরসা। ভাতার টাকায় চলে তার চিকিৎসা ও চারজনের সংসার। ফলে সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। তার স্ত্রীর দুটি কিডনিই বিকল। টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না তারা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিমল সাহা বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের বিরল সম্মান দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জীবনের শেষ সময়ে একটি ঘরের জন্য আবেদন করে ছিলাম- কিন্তু পাইনি। নিজের বসতভিটায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার একটি পাকা ঘর আর কিডনি রোগে আক্রান্ত আমার স্ত্রীর সুচিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চাই।”
বকশীগঞ্জ পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, “অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই জরাজীর্ণ ঘরে দিন কাটে পরিমল সাহার। তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই অসুস্থ। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না তারা। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার একটি পাকা ঘর পেলে তার জন্য অনেক ভালো হবে।”
এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব পাশে থাকার কথা জানান তিনি।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন জাহান লিজা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই আমরা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি। তাই প্রধামন্ত্রীর উপহারসহ সব ধরনের সহযোগিতা তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিমল সাহার ব্যাপারে সার্বিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।




































