ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ২২ দিন বয়সী একটি শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সাবিকুন্নাহার নামের এক নারী। রোববার (৮ আগস্ট) বিকেলে সিনিয়র জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান মনিরুজ্জামানের আদালতে সন্তান হত্যার স্বীকারোক্তি দেন তিনি।
নিহত শিশুর নাম নাঈম মিয়া। তার বাবা হুমায়ুন মিয়ার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সাবিকুন্নাহারকে।
শনিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে বাড়ির পাশে পুকুরে ভেসে উঠে নাঈম মিয়ার মরদেহ। এর আগে ৬ আগস্ট শুক্রবার শেষ রাতের শিশুটির নিখোঁজ হয়।
নাঈম মিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা সাবিকুন্নাহার প্রাথমিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছিল, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে শব্দ শুনে দরজা খোলেন তিনি। দরজার সামনে সাদা কাপড় পরা অপরিচিত দুই নারী বলতে থাকেন- ‘তোর ছেলেকে দে, পানি খাওয়াবো।’ ছেলেকে কোলে দেওয়ার পর দুই নারী বলেন, ‘তোর ছেলেকে এখনই দিয়ে যাবো।’ এরপর শিশুটিকে নিয়ে চলে যায় দুই নারী। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলেকে নিয়ে না ফেরায় তিনি চিৎকার শুরু করেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় সাবিকুন্নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে বিকেলে শিশুর লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এবং শনিবার রাতভর ও রোববার দুপুর পর্যন্ত সাকিবুন্নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নবজাতক সন্তানকে হত্যায় বাবা হুমায়ুন অজ্ঞাত আসামি করে রোববার সকালে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে দুপুরে ঘটনার বিস্তারিত পুলিশকে জানায় সাবিকুন্নাহার। এরপর তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বিকেলে আদালতে তোরা হয়।
পুলিশ জানায়, শিশুটির মা আদালতে দেয়া জবানবন্দির সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাবিকুন্নাহার জানান সন্তানের জন্ম ২২ দিন হলেও বুকে দুধ না আসায় খাওয়াতে পারেনি তিনি। তার শ্বশুর-শাশুড়ি দেখাশোনা ও তাদের কাছেই সন্তানকে বেশি রাখতো। সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়াতে পারা ও আদর করতে কাছে না পাওয়ার হতাশা থেকেই রাতের বেলায় পুকুরে ফেলে দেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, সন্তান হত্যার স্বীকারোক্তি শেষে মা সাবিকুন্নাহারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।





































