ঈদুল আজহার ছুটির পর দেশব্যাপী সরকারঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন অব্যাহত থাকার পর আগামীকাল রোববার (১ আগস্ট) থেকে শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কলকারখানা চালুর সংবাদে ভিড় বেড়েছে সড়ক, নৌ ও রেলপথে। ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে আসা এসব শ্রমিক চাকরি রক্ষায় দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এমনই চিত্র দেখা গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে।
শনিবার (৩১ জুলাই) ভোর থেকে কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক পাথরবাহী ট্রাক, কাঁচামাল পরিবহন ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, রিজার্ভ বাস ও রেলওয়ে জংশন থেকে তেলবাহী খালি ওয়াগনের ট্রেনের ব্রেক ভ্যানে গাদাগাদি করে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করেছেন।
জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ৯৮২ নম্বর ডাউন তেলবাহী খালি ট্রেনের ব্রেক ভ্যানে শতাধিক নারী-পুরুষ গেছেন টঙ্গী অভিমুখে। এদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জনের বেশি নারী গার্মেন্টসকর্মী রয়েছে।
আলাউল ইসলাম, রহিম বাবু, ইমরানসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গার্মেন্টসকর্মী সাংবাদিকদের বলেন, “সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে আমরা সাধুবাধ জানাই। কিন্তু ঢাকায় কীভাবে যাব, সে বিষয়টি হিসেবে নিলে আমাদের এই ভোগান্তি হতো না।”
রেলের পার্বতীপুর সুইচ কেবিনে কর্মরত এএসএম-৪ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ৯৮২ নম্বর গাড়িটি চট্টগ্রাম, টঙ্গী ও রংপুরের মধ্যে যাতায়াত করে জ্বালানি তেল নিয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ২৫-৫০ লোড গাড়িটি পার্বতীপুর হয়ে রংপুরে গিয়ে তেল খালাস হওয়ার পর পুনরায় পার্বতীপুর হয়ে টঙ্গী গিয়ে পৌঁছে। আজ বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া জ্বালানি তেলের খালি গাড়িটি রাত ৩টায় টঙ্গী গিয়ে পৌঁছুবে।
একাধিক সূত্র জানায়, এসব যাত্রীর কাছে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এএসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভাড়ার বিষয়টি আমি বলতে পারব না, তবে করোনাকালে এভাবে গাদাগাদি হয়ে ভ্রমণে নিঃসন্দেহে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করি।”
এদিকে পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথরখনির পাথরবাহী ট্রাকের প্রতিটিতে শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারাদিন মধ্যপাড়া থেকে ঢাকায় যাত্রা করেছেন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এসব শ্রমিকদের কাছ থেকে ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে প্রত্যেকের কাছে। উপজেলার যশাই হাট, খোলাহাটিসহ অন্যান্য স্থান থেকে ট্রাকে করে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে সব ধরনের শিল্পকারখানাসহ কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে রপ্তানিমুখী বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। এ সময় তারা শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

































