মেহেরপুরের গাংনীতে নির্বাচনী সহিংসতায় আপন দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমানকে প্রধান আসামি করে ৬৬ জনের নামে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাতে তাদের ভাই বেল্টু হোসেন বাদী হয়ে গাংনী থানায় মামলাটি করেন। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই গ্রামের ১০ জনকে নেওয়া হয়েছে থানায়।
ঘটনার দিনই পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ওই গ্রাম থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধলা গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করে প্রশাসন। এছাড়া ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গ্রামটিতে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম, চোখের সামনে পরিবারের স্বজনদের হারানোর ব্যথা সইতে পারছেন না। একই পরিবারের চারজন উপার্জনক্ষম মানুষদের হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
নিহত জাহারুলের বোন রেক্সোনা খাতুন বলেন, “চোখের সামনে সবাইকে হারিয়েছি। আতিয়ারের লোকজন এখনো এলাকাতেই আত্মগোপনে আছে। এখন আমরা বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না। আবারও আমাদের ওপর হামলা করতে পারে।”
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান বলেন, “গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই গ্রাম থেকে ১০জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মামলার বাকী আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।”
আসন্ন কাথুলী ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের (মেম্বর) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওই গ্রামের বর্তমান মেম্বর আজমাইন হোসেন টুটুল ও সাবেক মেম্বর আতিয়ার রহমান। প্রার্থী আজমাইন হোসেন টুটুলের কর্মী-সমর্থকরা সোমবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিয়ার রহমানের এলাকায় ভোট চাইতে গেলে তার কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রার্থী টুটুলের দুজন কর্মী জাহারুল ও সাহাদুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হয় উভয় পক্ষের ২০ জন কর্মী-সমর্থক।



































